Revolutionary democratic transformation towards socialism

নারীর নিরাপত্তা, সমানাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার


আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নারী মুক্তির সংগ্রাম ও সমাজ পরিবর্তনের লড়াই অভিন্ন। বিদ্যমান সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় নিপীড়িত নারী সমাজের নিরাপত্তা সমানাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নারীবিদ্বেষী উগ্র ডানপন্থী শক্তি আগ্রাসন প্রতিহত করতে সিপিবি আপসহীন ভূমিকা পালন করবে।
 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে আজ ৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার, বেলা ১১টায়, পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে অবস্থিত মৈত্রী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি চিকিৎসক শাখার সম্পাদক আক্তার বানু, নারীনেত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, শ্রমিক নেতা শিল্পী আক্তার, ডালিয়া আক্তার, রেহানা আক্তার, প্রগতি লেখক সংঘের সহসভাপতি জাকির হোসেন, সংস্কৃতিকর্মী সৈয়দা রত্না, ফারুখ আহমেদ, ছাত্রনেতা সোফিয়া মাহবুব প্রমুখ। 

আলোচনা সভায় সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি একটি নারীবিদ্বেষী মহল একের পর এক আক্রমণের ঘটনা ঘটাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি সারা দেশে নারীদের হেনস্তা করার পরও সরকার হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এসব অপশক্তিকে দমন করতে না পারার দায় সরকারকেই নিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ

বক্তব্য ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট এসব হীন প্রচেষ্টা করতে হবে। 

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস সমাজতন্ত্রী নারীদের দ্বারা সূচিত শ্রমজীবী অধিকার আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিন। দুঃখজনক হলেও বহুজাতিক কর্পোরেট পুঁজি নারী দিবসের মর্মার্থকে পণ্যের মোড়কে আবদ্ধ করেছে। ফলে নারী মুক্তির সংগ্রামের মর্ম আজ এই দিবস উদযাপনে খুঁজে পাওয়া যায় না। 

তিনি নারীর বিরুদ্ধে চলমান আক্রমণ ও আধিপত্য প্রতিরোধ করতে রোকেয়া ব্রিগেড গড়ে তোলার আহ্বান জানান। 

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর হাজার বছরের লড়াই সংগ্রামের এক অর্জন, এ দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। নিউইয়র্কের সূতাকলের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা ও অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন সরকারের গুন্ডা বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে দমন করতে চায়। ইতিহাসের সেই লড়াইয়ের ক্ষণকে স্মরণ করে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী কমরেড ক্লারা জেটকিন নারী আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে এ দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শুরুতে শুধুমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট-বামপন্থীরা দিবসটি পালন করলেও, এখন পৃথিবী জুড়ে নানা আঙ্গিকে নারী দিবস পালন করা হচ্ছে। নারী দিবসের শতবর্ষ পরে এসেও নারীর সামগ্রিক মুক্তি অর্জিত হয়নি। পুঁজিবাদ নারীকে পণ্যে পরিণত করে তার মুনাফা অর্জনের জন্য নারী অধস্তনতা, নারী নির্যাতন এবং বৈষম্যের সকল উপাদানকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই কাজেই নারীমুক্তির মূল শত্রু পুঁজিবাদকে রুখে দেয়ার মধ্য দিয়ে নারীমুক্তির লড়াইকে বেগবান করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..