
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)'র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুঃশাসন হঠানো এবং ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজ শুক্রবার পুরানা পল্টনস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবি আয়োজিত সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কর্মরত কমরেডদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন।
কমরেড সেলিম বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ দুঃশাসনে আক্রান্ত। লুটপাট-দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস-নিপীড়নে দেশবাসী অতিষ্ঠ। এই চলমান দুঃশাসন থেকে মুক্তির সংগ্রাম এবং সেই সাথে এই দুর্বৃত্তায়িত ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম আজ পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার সংগ্রামকে অগ্রসর করার বিকল্প নেই।
কমরেড সেলিম আরো বলেন, এদেশের মুক্তিসংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের সংগ্রামে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীরা সামনের কাতারে থেকে লড়াই করেছে। বর্তমান দুঃশাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে এই সময়েও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে জোরদার করা দরকার। সিপিবির সাথে সম্পৃক্ত সংস্কৃতি কর্মীদের অন্যান্য প্রগতিশীল সংস্কৃতি কর্মীদের সংগঠিত করে সেই আন্দোলন বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার দুটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু ও কেন্দ্রীয় নেতা এ এন রাশেদা। প্রথম অধিবেশনে ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি কর্মীর ভূমিকা ও দায়িত্ব’ বিষয়ে আলোচনা করেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, 'মার্কসবাদী দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও কমিউনিস্ট পার্টি' শীর্ষক আলোচনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড শাহীন রহমান। দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মার্কসীয় তত্ত্ব’ বিষয়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মনোজ দাশ এবং ‘পার্টি ও গণসংগঠন- আন্তঃসম্পর্ক, সমস্যা, করণীয়, কর্মসূচি’ বিষয়ে সিপিবির সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন আলোচনা করেন।
কর্মশালায় সারাদেশ থেকে সংস্কৃতি আন্দোলনে কর্মরত সিপিবির শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন৷