Revolutionary democratic transformation towards socialism

কমরেড বারীণ দত্তের স্মরণসভায় সেলিম কোন অসৎ পথে সৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা যায় না


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নানকার কৃষক বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড বারীণ দত্তের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় সভাপতির বক্তৃতায় সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, কমরেড বারীণ দত্ত সারা জীবন সততা, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সাথে সাধারণ মানুষের শোষণ-মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন। কোন অসৎ পথে সৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন বিপ্লবীর ক্ষেত্রে সততার জীবন অনুশীলন করতে পারাটি তার জন্য অগ্নিপরীক্ষা। সততার জীবনের অধিকারী হওয়ার কারণেই কমরেড বারীণ দত্ত আদর্শ বিপ্লবী হিসেবে মানব মুক্তির আন্দোলনে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। কমরেড সেলিম আরও বলেন, খুন-ধর্ষণ-অনাচার-দূরাচার-লুটপাটের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষকে আজ জেগে উঠতে হবে। গণতন্ত্র-গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকারের দাবীতে গণজাগরণ গড়ে তুলতে হবে। তিনি মানুষের জাগরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম, ডা. দিবালোক সিংহ, কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম সবুর, প্রগতি লেখক সংঘের সহসভাপতি শামসুজ্জামান হীরা এবং সিপিবি ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহউদ্দীন। স্মরণসভা পরিচালনা করেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম

সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন। সভার শুরুতে কমরেড বারীণ দত্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিটি নিরবতা পালন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, কমরেড বারীণ দত্ত ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবদী সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও ত্রিশের দশকের মধ্যভাগে তিনি মার্কসবাদ-লেলিনবাদ মতাদর্শ গ্রহণ করে তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। শত নির্যাতনের মুখেও তিনি সিলেটের ‘নানকার কৃষক বিদ্রোহের’ অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বক্তারা বলেন, ২২ বছরে বয়সের বারীণ দত্ত ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার বরণ করেন এবং এভাবে বিভিন্ন সময়ে এক দশকের বেশি সময় তিনি ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শাসকদের কারাগারে মানবেতন জীবনযাপন করেন। স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড বারীণ দত্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দেশকে স্বাধীন করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই আকাঙ্খার দেশ আমরা আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে পার্টির অভ্যন্তরে সৃষ্ট মতাদর্শিক বিতর্কের সময় তিনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে পার্টিকে বিলোপের হাত থেকে রক্ষা করেন। উল্লেখ্য, কমরেড বারীণ দত্ত ১৯৯৩ সালের ২০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..