আজ ১১ আগস্ট, শনিবার, বিকাল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে চলমান আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের পুলিশ বাহিনী-ছাত্রলীগের হামলা, ছাত্রদের গ্রেপ্তার ও মামলার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট, ঢাকা নগর কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোট, ঢাকা নগরের সমন্বয়ক ডা. সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) নগরের নেতা সীমা দত্ত, গণসংহতি ঢাকা নগরের আহ্বায়ক মনিরুদ্দিন পাপ্পু, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির নগর নেতা মোজাম্মেল হোসেন মোস্তাক।
বক্তারা বলেন, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে সরকার আতঙ্কিত হয়ে বামপন্থিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডায় বাসদের নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, খায়রুল আলমের ওপর হামলা চালায়। সমাবেশে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সরকার বলছে তারা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে, কিন্তু আমরা দেখছি এখনও নির্যাতন চলছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহযোগিতায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করছে। এসব হামলা-মামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের

মধ্য দিয়ে দিন দিন সরকারের ফ্যাসিস্ট চরিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। হামলা-মামলা-নির্যাতন-গ্রেপ্তার চালিয়ে আন্দোলন দাবায় রাখতে পারবে না। তথাকথিত উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রহরণ করে চলছে সরকার। সমাবেশ থেকে গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের মুক্তির দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরো বলেন, সরকার বিভিন্ন মহলে মতামতকে উপেক্ষা করে যে আইনের খসড়া পাস করলো তার সড়কে সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যথেষ্ট নয়। সড়ক দুঘর্টনার রোধের জন্য আইন করেছে, এ আইনটি অস্পষ্ট। সড়ক দুর্ঘটনার দায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শোষিত চালকের উপর চাপানো ও শাস্তির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হল। অথচ যানবাহনের মালিক, দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ার, কন্ট্রাক্টরসহ দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির বিধান আইনে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পরিবহন সেক্টরের যে নৈরাজ্য চলছে তা রোধে সর্বব্যাপী দুর্নীতি রোধ করতে হবে। পরিবহন ব্যবসায় মাফিয়াতন্ত্রের হাতে সড়ক খাত জিম্মি। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাও দুর্নীতিগ্রস্থ।
বক্তারা অবিলম্বে হামলা-মামলা-নির্যাতন-গ্রেপ্তার বন্ধ করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।