মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে আজ ২৫ মার্চ, রবিবার, বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক মোশরেফা মিশু, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের আজিজুর রহমান, বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হামিদুল হক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আবু হাসান টিপু, গণসংগতি আন্দোলনের আবু হাসান রুবেল। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর আলী।
সভাপতির বক্তব্যে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানের চার মূলনীতি গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। লুটপাট ও গণতন্ত্রহীনতার দ্বি-দলীয় রাজনীতির নিষ্পেষণে শ্রমিক, কৃষক, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, লাখো শহীদের আত্মদানে মুক্ত এই বাংলাদেশকে শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে ‘ভিশন-৭১’ বাস্তবায়ন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দ্বি-দলীয় জোটের বাইরে বাম, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, সব স্বাধীনতাই মুক্তি সংগ্রাম হয়না, আবার সব মুক্তির সংগ্রামই স্বাধীন দেশের জন্ম দেয় না। ‘৭১ সালে আমাদের সংগ্রাম ছিল একই সাথে স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবং মুক্তির সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয় মুক্তির আন্দোলনের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রাম। যে কারণে এই জনযুদ্ধ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিসংগ্রামের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট স্থায়ী করতে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া বা ক্ষমতায় যাওয়ার বিকৃত কৌশলের প্রতিযোগিতা চলছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সেই সুযোগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সাম্প্রদায়িক ঘাতকগোষ্ঠি ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতি বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ক্ষমতাসীন ও শাসকগোষ্ঠির সরকার দুর্বলতার সুযোগে নানা জাতীয় স্বার্থবিরোধী শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ’৭২ সালে বুর্জোয়ারা সংবিধান করলেও শ্রেণী সীমাবদ্ধতার কারণে তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। বুর্জো পেটি বুর্জোয়ার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ এখন লুটেরা বুর্জোয়ার নেতৃত্ব হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার শহীদদের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এইসব বুর্জোয়াদের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। জনগণের রক্তে, ঘামে অর্জিত বিজয় আমরা ভূলুণ্ঠিত হতে দিতে পারি না। নেতৃবৃন্দ বলেন, আজকে বামপন্থীদেরকেই জনগণের অর্জিত বিজয়ের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়িত করতে হবে। সভার শুরুতে সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
Login to comment..