Revolutionary democratic transformation towards socialism

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক আক্রমণ


রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং কার্যালয় অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিবি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা চালানো এবং রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে আক্রমণ বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অবাধ রাজনৈতিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের বিরুদ্ধে সরাসরি নগ্ন আঘাত বলে মনে করে সিপিবি। 

আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, আজ রাত ১০টায় লাঠিশোটা নিয়ে একদল উগ্র ও উশৃংখল ব্যক্তি নিজেদের সরকার দলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তিভবনে সামনে জড়ো হয়ে সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছে দাবি করে প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকতে উদ্যত হয়। এ সময় সিপিবি নেতাকর্মীরা বাধা দিলে তারা সহিংসতা শুরু করে। হামলাকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিপিবি কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার পরেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কথিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাতে থাকে।     
     
সিপিবি নেতৃবৃন্দ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, পার্টির বহু নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র্র। আজ সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালাতে এসেছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছে। এই গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে চলমান সংগ্রামের শত্রু।

সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, হামলা চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে এ দেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে অদ্যবধি সন্ত্রাস করে কেউ সিপিবির সংগ্রামকে দমন করতে পারেনি। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দায়িত্ব পালন করবে কি করবে না, তা দেখে জনগণ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাদের করণীয় নির্ধারণ করবে।   

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..