Revolutionary democratic transformation towards socialism

শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে


ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, খাপড়া ওয়ার্ডের বীর শহীদরা শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন জীবন দিয়েছেন। একটি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের সেই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। 

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের বিপ্লবী লড়াই এ দেশের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক উজ্জ্বলতম পর্ব। কারাগারের অভ্যন্তরেও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীরা শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেদিনের সেই লড়াই আজও আমাদের পথ দেখায়, উজ্জীবিত করে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেরণা।

আজ ২৪ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, বিকেলে পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তি ভবনের ৭ম তলার মিলনায়তনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ, খাপড়া ওয়ার্ডের আন্দোলনকারী কমরেড প্রসাদ রায়ের কন্যা বৃত্তা রায় দীপা, কমরেড আব্দুস শহীদের কন্যা জয়া শহীদ। সভা পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আরিফুল ইসলাম নাদিম। আলোচনা সভার শুরুতে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় খাপড়া ওয়ার্ডের

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই আমাদের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব। শুধু ইতিহাসকে জানার জন্যই নয়, ভবিষ্যতের দিশা পাবার জন্যও খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইকে অনুধাবন করা জরুরি। খাপড়া ওয়ার্ডের গৌরবোজ্জ্বল কাহিনি ও শিক্ষা সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানবমুক্তির লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইয়ের ধারায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। শহীদ-যোদ্ধাদের আদর্শ, লড়াই ও আত্মত্যাগের ধারা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। শহীদদের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক-সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। 

নেতৃবৃন্দ খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং পাঠ্যপুস্তকে খাপড়া ওয়ার্ডের বিপ্লবী কাহিনি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

এছাড়াও খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ দিবসে আজ ২৪ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, সকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজশাহী জেলের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং রাজশাহী মহানগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে বেলা ৩টায় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট-রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে বন্দী অবস্থায় শহিদ হন কমিউনিস্ট পার্টির সুধীন ধর, বিজন সেন, হানিফ শেখ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, দেলোয়ার হোসেন, কম্পরাম সিং ও আনোয়ার হোসেন। আরও ৩২ জন রাজবন্দি গুরুতর আহত হন। 

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..