সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, চরম বিদ্যুৎ সংকট, আর্থিক বিপর্যয়, খাদ্য-দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ সংকটের দায় দেশের জনগণের নয়। দেশে চলমান গণতন্ত্রহীন ও জবাবদিহিতাহীন অবস্থায় ক্ষমতাসীনদের অবাধ লুটপাট, অর্থ পাচার এবং দেশি-বিদেশি বৃহৎ বেনিয়া গোষ্ঠীর সাথে জনস্বার্থবিরোধী চুক্তির খেসারত দিচ্ছে দেশের মানুষ। সংকট নিরসনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগ, অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার সংগ্রামে দেশবাসীকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা দক্ষিণ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য আক্তার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাইফুল ইসলাম সমীর, জেলা কমিটির সদস্য শংকর আচার্য্য প্রমুখ।
সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, চলমান দুঃশাসনের কবল থেকে বাঁচতে হলে জনগণের দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে হটাতে হবে। সরকার আবারও একটি প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তিনি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সিপিবি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।
সমাবেশে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সরকার সক্ষমতা তৈরি না করেই অসম চুক্তির মাধ্যমে গত ১২ বছর ধরে দেশি-বিদেশি কয়েকটি কোম্পানিকে প্রায় লক্ষ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে মুফতে প্রদান করেছে। ক্ষমতাসীনদের লুটকৃত অর্থ অবাধে পাচার হয়েছে। বৈদেশিক ঋণ নির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সরকারের বিজ্ঞাপন ব্যয় হিসেবেই শুধু কাজের, কিন্তু ন্যূনতম টেকসই মডেল হিসেবে
দাঁড়াতে পারেনি। বরং আসন্ন সুদ এবং ঋণ পরিশোধের দায়ের কাছে দেশের ভবিষ্যৎ বন্ধক দিয়ে বসে আছে সরকার। বহুজাতিক ফিন্যান্স পুঁজি ইতোমধ্যেই দেশের সার্বভৌমত্ব গিলে বসে আছে।
সমাবেশে জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, ভবিষ্যত পরিণতির আশঙ্কা দূরের কথা, বর্তমানে প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি আমদানি করার মত নগদ অর্থ সরকারের নেই। এর মধ্যেই বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে অবাধ লুটপাট। সরকার গরিব মানুষের কাঁধেও বিরাট ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ইতোমধ্যেই চড়া বাজারে খাদ্য সংকটে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারের শাসন দেশকে আজ এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
সমাবেশে জলি তালুকদার বলেন, দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, অধিকার রক্ষায় চলমান গণসংগ্রামকে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত করতে হবে। শাসকশ্রেণি ও তাদের বিদেশি প্রভুদের মধ্যে চলমান দরকষাকষি তাদের মধ্যকার লেনেদেন-সমঝোতার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে না। তিনি দেশের বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে একতাবদ্ধ করে একটি বিকল্প রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বিদ্যুৎ সংকট, আর্থিক বিপর্যয় এবং খাদ্য ও দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সমাবেশ থেকে গণদুর্ভোগ ও সংকট নিরসনে সরকারের পদত্যাগ, অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্দলীয় তদারকি সরকারের দাবি আদায়ে জোরদার লড়াই গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট ঘুরে পল্টন মোড়ে দিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা লাল পতাকা ও লণ্ঠন বহন করেন।