Revolutionary democratic transformation towards socialism

মার্কিন নেতৃত্বে এশিয়ায় দুরভিসন্ধিমূলক অর্থনৈতিক জোট গঠনে সিপিবির উদ্বেগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক কাঠামো (আইপিইএফ) নামে যে নতুন অর্থনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সিপিবির সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ্ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স আজ ২৭ মে ২০২২ এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার ১৩ টি দেশ নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যে নয়া জোট গঠন করেছে তা স্পষ্টতই দূরভিসন্ধিমূলক। সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হলো, বাংলাদেশকে এই জোটে যুক্ত করতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জাপান সফরকালে এই জোটের ঘোষণা দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের মন্দ অভিপ্রায় অনেকটাই প্রকাশ করে ফেলেছেন। সেটি হলো, এশিয়ার বাণিজ্যে মার্কিনের বিশেষ আধিপত্য এবং সেটি উৎপাদনের জোরে নয়, বরং তদারকি ক্ষমতার জোরে। শুরুতেই এই জোটের আলোচনায় সারা দুনিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীনকে বাইরে রাখা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমারকে। এ জোটের ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে, তারা জোটভুক্ত দেশগুলোর সাপ্লাই চেইন, জ্বালানি খাত, বাণিজ্য কর, শ্রম আইন ইত্যাদি বিষয়ে তদারকিমূলক ভূমিকা রাখবে। ফলে বেশ পরিস্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে জোটের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে কার কর্তৃত্ব প্রধান হবে। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য জোটের নামে এটি আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক জোট। যার লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন যুদ্ধের নয়া প্রেক্ষাপটে চীন এবং রাশিয়ার বিপরীতে তাদের নিজস্ব শক্তিবলয় গড়ে তোলা। একই সঙ্গে এশিয়ায় ন্যাটোর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির প্রেক্ষাপট শক্তিশালী করা এবং এক পর্যায়ে চীনের বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পকে বিঘ্নিত করা। যা নিশ্চিতভাবেই এশিয়ায় বিরাট সংঘাতের জন্ম দেবে। এশিয়ার জনগণ কোনোভাবেই এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে স্বাগত জানাতে পারে না। তাই, অবিলম্বে এই (আইপিইএফ) জোট প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ সরকারকেও কোনোভাবেই এই জোটে শরিক না হওয়া ও এর থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..