মুশতাক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয়
তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি
Posted: 27 ফেব্রুয়ারী, 2021
বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ-এর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি, প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি হামলার বিচার এবং গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রনেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার, বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সমাবেশ থেকে নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এ আইনে কারাবন্দী সকলের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, ইউসিএলবি’র কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আমেনা আক্তার, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা রাশেদ শাহরিয়ার।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। তাকে স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নয় মাস কারান্তরীণ রাখা হয়। হাইসিকিউরিটি প্রিজনার তকমা দিয়ে স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। তার জামিন পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তাকে হত্যার দায় ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারকে নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতি দেশের মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা বলেন, কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এখনও অনেকেই কারাবন্দী আছেন। গতকালও খুলনার পাটকল শ্রমিক আন্দোলনের নেতা রুহুল আমিনকে এ আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী সকলের মুক্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুশতাক আহমেদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যে বর্বর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী চেহারা আবারও উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল শাহবাগে প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে ছাত্রদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচার এদেশের জনগণের আদালতে হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা গ্রেপ্তারকৃত ৭ ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।