সিপিবি’র জাতীয় পরিষদ সভায় কমরেড সেলিম চার বিপদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তুলতে হবে ১৫-৩০ জানুয়ারি ‘দাবিপক্ষ’ ঘোষণা

Posted: 09 ডিসেম্বর, 2016

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র জাতীয় পরিষদ সভায় পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশের সামনে নানা ষড়যন্ত্র। সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র আর গণতন্ত্রহীনতা-এই চার বিপদের ছোবলের মুখে আজ দেশ ও জনগণ। আমাদের জাতীয় সম্পদ, সার্বভৌমত্ব নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ নানা ষড়যন্ত্র করছে। ঘুষ-দুর্নীতি-অনাচারে দেশ ছেয়ে গেছে। মুনাফা আর লুটপাটের প্রক্রিয়া শক্তিশালী হচ্ছে, জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে মেহনতি মানুষের স্বার্থকে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে। জনগণের আন্দোলনের ওপর হামলা হচ্ছে। দেশের নানা স্থানে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা চলছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশ ও মানুষ বাঁচাতে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্পকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। চার বিপদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তুলতে হবে। আজ ৯ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সিপিবি’র জাতীয় পরিষদের সভার সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। সভায় রিপোর্ট পেশ করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় পরিষদের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। কমরেড সেলিম আরো বলেন, সর্বত্র গরিব মানুষের ওপর হামলা চলছে। গরিব মানুষ উচ্ছেদের জন্য অভিযান চলছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য আদিবাসীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ, হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের গুলিতে ৩ জন আদিবাসী নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াতে পুলিশের হামলায় ১জন কলেজ শিক্ষকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকার মিরপুরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশ নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১ জন শ্রমিককে হত্যা করে পুলিশ লাশ গুম করেছে। মুনাফাখোরদের মুনাফার বলি হচ্ছে বস্তিগুলো। বস্তিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হচ্ছে। যশোরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সিপিবি’র নেতা কমরেড নান্নুকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন কোনো আন্দোলনকেই সহ্য করতে পারছে না। হামলা করে, গুলি চালিয়ে, হত্যা করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। আন্দোলন তীব্র করেই সরকারের দমন-পীড়নের জবাব দেওয়া হবে। জাতীয় পরিষদের সভায় জনগণের বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৫-৩০ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘দাবিপক্ষ’ ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভ-সমাবেশ, হাটসভা, পথসভা, পদযাত্রা, জনসভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই পক্ষ পালিত হবে। জাতীয় পরিষদের সভার রিপোর্টে কমরেড জাফর বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে বিজয়ের বিকল্প নেই। এজন্য তৃণমূলকে সংগঠিত করতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্পকে শক্তিশালী করবে। জাতীয় পরিষদের সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে মহান অক্টোবর বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে পার্টির সর্বস্তরের সংগঠন তথা শাখা থেকে শুরু করে সব কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা, সেমিনার, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়।