ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান

Posted: 11 অক্টোবর, 2026

ভারতের চলমান গণআন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বলেছে, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম কেবল ভারতের জনগণের নয়, এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেরও অংশ। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হলে সে সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা এবং প্রতিকার চাওয়াটা যে কোন দেশের নাগরিকদের স্বাভাবিক ও ন্যায্য প্রতিক্রিয়া। ভারতের জনগণের এই ন্যায্য লড়াইয়ের প্রতি সিপিবি আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করে।
আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (ঝঢ়বপরধষ ওহঃবহংরাব জবারংরড়হ-ঝওজ) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যে প্রতিবাদ ও গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা উপমহাদেশের সকল দেশের মানুষের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলসমূহ ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝওজ-এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে আন্দোলনকারীরা 
‘ভোট চুরি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। সেখানকার বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও অপরাপর বিরোধী দলসমূহ, ছাত্র ও যুব সংগঠন, তরুণ সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংগ্রাম গড়ে তুলেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোনো যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ক্রমেই গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হচ্ছে।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্র কেবল নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের অবাধে মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে কার্যত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আর টিকে থাকে না। বাংলাদেশ বহুবার এমন খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, দেশের মানুষ প্রতিবারই প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছে।   
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বাধা, আটক এবং বলপ্রয়োগের প্রকাশিত সংবাদে সিপিবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে দমন করে কিংবা আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গণআন্দোলনকে থামানো যায় না। জনগণের প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
সিপিবি নেতৃবৃন্দ ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত সকলের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এই গণআন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে সে দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি আদায় করতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে, দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের প্রকৃত স্বার্থ নিহিত রয়েছে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য এবং জনগণের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে। ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় একথা উল্লেখ করে সিপিবি নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার চলমান সংগ্রামে ভারতের ন্যায়পরায়ণ জনগণ বিজয় অর্জন করবে।