চারশত বছর ধরে বসবাসকারী হরিজনদের কলোনি উচ্ছেদ করা চলবে না উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

Posted: 14 জুন, 2024

ঢাকার বংশালে মিরনজিল্লা হরিজন কলোনি উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আজ ১৪ জুন ২০২৪ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড শাহীন রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা কমরেড শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পাটির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী। 

সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হরিজন নেতা পাতপুরী জেমস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের হেমন্ত সরকার প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, হরিজনরা কারো কোনো সম্পত্তি দখল করেনি। তাদেরকে আসামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসার পর বংশ পরম্পরায় গত ৪০০ বছর ধরে বংশালের মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে বসবাস করে আসছে এবং শহর পরিষ্কার রাখতে মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই কলোনি ছাড়া তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তারা সবসময় অবহেলার শিকার হয় এবং অমানবিক পরিবেশে ছোট ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ঘরে স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা-পুত্রবধূ নিয়ে একসাথে গাদাগাদি করে তাদের জীবনযাপন করতে হয়। এদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে এই উচ্ছেদ অভিযান কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাসন উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছেন, দেশে গৃহহীন কোনো মানুষ থাকবে না, আরেকদিকে তার ভাগিনা মেয়র তাপস হরিজনদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করছে। এই দ্বিচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হরিজনরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ১১ জন হরিজন নেতা জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই হরিজনদের ভূমির অধিকারের দীর্ঘদিনের দাবি না মেনে সরকার তাদের উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে। ইতিমধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাম করে হরিজনদের চাকরি না দিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের চাকরি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহ। শুধু তাই নয়, আগে যেমন আমৃত্যু কাজ করতে পারতো বর্তমানে চাকরির সীমা ৫৯ বছর করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নির্মিত ভবনগুলো থেকে ৫৯ বছর বয়সের পর তাদেরকে ঘর ছেড়ে দিতে হয়। তাছাড়া নিজস্ব দলীয় লোকদের নিয়োগ দিতে যখন তখন সামান্য অজুহাতে সুইপারদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে বহু হরিজনদের চাকরির ও থাকার ঘরের ব্যবস্থা নেই। চাকরি থাকুক আর না থাকুক হরিজনদের এই কলোনিতে থাকা ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের জন্য স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছরে আজ তারা তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাবে, আর সিটি কর্পোরেশনের জোগসাজসে মার্কেটের নামে ধনী-লুটেরাদের গোষ্ঠী তা ভোগদখল করবে তা মেনে যায় না।

নেতৃবৃন্দ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ১১ জুন উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থ হরিজনদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ হরিজন কলোরির সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এবং ৪০০ বছর ধরে বাসবাসকারী হরিজনদের নামে ঐ জায়গা স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।