জাবিতে ছাত্র নেতাদের বহিষ্কারাদেশের তীব্র নিন্দা ও চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান সিপিবির

Posted: 22 ফেব্রুয়ারী, 2024

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি')র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এক বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ধর্ষণবিরোধী চলমান আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণকে দল দাসের আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক স্বৈরাচারী আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতি নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করে ধর্ষণের সাথে জড়িত অপশক্তি ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের অপরাধকে আড়াল করছে প্রশাসন। আর এটা করতে চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।

এসব কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন প্রকারান্তরে ধর্ষক গোষ্ঠীর পাহারাদারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাঙ্গচিত্র অঙ্কনের তথাকথিত অপরাধে ছাত্রনেতা অমর্ত্য রায় ও ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলিকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অগণতান্ত্রিক। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই দুই ছাত্র নেতার বহিষ্কারাদেশ নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংকটের এই চিত্র শুধুমাত্র জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র একই। শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সন্ত্রাসের সব রাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনগুলো। আর এদের রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন।

নেতৃবৃন্দ ছাত্র সমাজসহ আপামর দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা জাতির মনন গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে, সেই ছাত্র সমাজকে এইভাবে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।