আজ ১২ মে ২০২২ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সকাল ১১টায় পল্টন মোড়ে সমাবেশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি ও লুটেরা ব্যবসায়ীদের রক্ষক ব্যর্থ বাণিজ্যমন্ত্রীর অপসারণ ও বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টিসিবি’র দোকান, গাড়ি বৃদ্ধি ও বিকল্প বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ নিরসণের দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রার সময় গুলিস্তান নূর হোসেন চত্বরে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। মিছিলটি পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে এবং পুলিশি বাধার সামনেই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, ডা. সাজেদুল হক রুবেল, কাজী রুহুল আমীন, জলি তালুকদার, লুনা নূর প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে পার্টির সভাপতি কমরেড মোঃ শাহ আলম বলেন, এই সরকার জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই সরকার দুর্নীতিবাজ আমলা, লুটেরা রাজনীতিবিদ, সামাজিক দস্যু, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে, এই সরকারের পক্ষে জনগণের অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশে ৫ ভাগ ও ৯৫ ভাগের রাজনীতি-অর্থনীতি বিদ্যমান। ৫ ভাগের রাজনীতি-অর্থনীতি ৯৫ ভাগকে শোষণ করছে। এই রাজনীতি উল্টে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশি ব্যরিকেডে ৯৫ ভাগের জনরোষ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। তিনি গণবণ্টন, স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা ও সরকারি উদ্যোগে বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, অনুনয় বিনয় করে ব্যবসায়ীদের মন গলানো যাবে না। বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তেলসহ নিত্যপণ্যের আমদানি ও মজুত গড়ে তোলা, টিসিবি’র গাড়ি-সংখ্যা বাড়ানো, অন্তত তিন কোটি পরিবারকে তেলসহ নিত্যপণ্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরবরাহের দাবি জানান। তিনি বলেন, টিসিবি’র বিক্রি বোতলের তেল ১১০ টাকা হলে খোলা তেল ৯০ টাকা লিটারে বিক্রি করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যর্থ বাণিজ্যমন্ত্রীকে এখনও অপসারণ না করে ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের সরকার। এরাই এদের লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি তেলের দাম কমানো ও সারা দেশে রেশনিং ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালুর দাবি জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এদেশে গণঅভ্যূত্থান অনেকবার হয়েছে। জনগণ যে কোনো সময় এই অভ্যূত্থান ঘটাবে। নেতৃবৃন্দ চলমান দুঃশাসনের অবসান, ব্যবস্থা বদল ও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে দেশবাসীকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।