ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদী শাসন, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী লড়াইকে বেগবান করতে হবে

Posted: 08 মার্চ, 2021

ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সংগঠক বিপ্লবী সাহিত্যিক, শ্রমিকনেতা কমরেড সোমেন চন্দ হত্যাকাণ্ড দিবসের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে কমরেড সোমেন চন্দর নাম চিরঅক্ষয় হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তিনি পথপ্রদর্শক। তাঁর বিপ্লবী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েই ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদী শাসন, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী লড়াইকে বেগবান করতে হবে।

কমরেড সোমেন চন্দ হত্যাকাণ্ড দিবসে আজ ৮ মার্চ সকালে ঢাকার কদমতলা হৃষিকেষ দাস লেনে কমরেড সোমেন চন্দর স্মৃতিফলকের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, সোমেন চন্দ চর্চাকেন্দ্রের সংগঠক হারুণ-অর-রশীদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সিপিবির সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি বিকাশ সাহা।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী কমরেড সোমেন চন্দ রাজনীতি আর সাহিত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একই সঙ্গে ঢাকা রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ও প্রগতি লেখক সংঘের নেতা। শ্রেণিহীন-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, আবার একই সঙ্গে সংগ্রামের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর লেখনীতে। গুণ্ডাবাহিনীর কাছে মাথা নত করেননি। যতক্ষণ প্রাণ ছিল তাঁর, ততক্ষণ তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। একজন সাচ্চা বিপ্লবী হিসেবেই তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। তাঁর বিপ্লবী জীবনাদর্শ, আত্মত্যাগ চিরদিন বিপ্লবী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণা জোগাবে।

সমাবেশের আগে সিপিবি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, প্রগতি লেখক সংঘ, সোমেন চন্দ চর্চা কেন্দ্র, সোমেন-তাজুল ট্রাস্ট, সোমেন-তাজুল পাঠাগার, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সোমেন চন্দর স্মৃতিফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকার সূত্রাপুরের সেবাশ্রম মাঠে সোভিয়েত সুহৃদ সমিতির ব্যানারে কমিউনিস্ট পার্টি ফ্যাসিবিরোধী শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেন। সম্মেলনে যোগ দেন কমরেড বঙ্কিম মুখার্জী, কমরেড জ্যোতি বসুসহ প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে যোগ দিতে কমরেড সোমেন চন্দ লাল ঝান্ডার মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে হৃষিকেশ দাস লেনে ফ্যাসিস্টদের সহযোগী উগ্র জাতীয়তাবাদী গুণ্ডারা নির্মম হামলা করে। ২১ বছরের এই প্রতিভাবান তরুণ নির্মমভাবে খুন হন। খুনীরা তাঁর চোখ উপড়ে ফেলে, জিহ্বা কেটে ফেলে, পেট চিরে ফেলে। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে খুনীরা তাঁর মৃতদেহের ওপর পৈশাচিক নৃত্যে মেতে ওঠে। কমরেড সোমেন চন্দ বাংলার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ। তিনি ছিলেন ঢাকা রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক এবং একইসঙ্গে প্রগতি লেখক সংঘের ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক।