অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ কর

Posted: 09 মার্চ, 2021

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, লেখক মুুশতাক আহমেদ হত্যার বিচার, মুশতাক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদকারী সকল গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊধর্গতি রোধের দাবিতে আজ ৯ মার্চ, ২০২১ দেশব্যাপী বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আ ক ম জহিরুল ইসলাম, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, ইউসিএলবি’র কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদলু ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৬ সালে প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার প্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিরোধীতার ফলে সরকার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৫৭ ধারাকে ভেঙে নতুন আইনের ২১, ২৫, ২৯ এবং ৩১ এই ৪টি ধারায় ছড়িয়ে দেয়া হয়। আইনে অপরাধ হিসাবে আরো নতুন কিন্তু চরম অনির্দিষ্ট কতগুলি বিষয়কে যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে এ বিষয়গুলি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া হয়। আইনের ৪৩ ধারায় পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, জব্দ ও তল্লাশি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারার সুুুযোগ নিয়ে সরকার এবং সরকারের সুবিধাভোগীরা বিরোধী মতের ব্যক্তিদের শায়েস্তা করার জন্য এর ব্যবহার করছে। মুশতাক, কিশোর, দিদারের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধিতা এক নয়। জনগণের টাকায় যাদের বেতন হয়, জনগণ যাদের নির্বাচিত করে, তাদের সমালোচনা করার অধিকার জনগণের রয়েছে। এটি নাগরিক অধিকার। ভোটারবিহীন বা মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারকে অবৈধ বলা বা তার পদত্যাগ দাবি করা রাষ্ট্রের বিরোধিতা নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। নেতৃবন্দ অবিলম্বে বাক, ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্বকারী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত কালো আইন বাতিলের দাবি জানান। নেতৃবন্দ গণআন্দোলন গড়ে তলে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণবিরোধী সরকারকে পরাভুত করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। তাকে স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নয় মাস কারান্তরীণ রাখা হয়। ছয়বার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তাকে হত্যার দায় ক্ষমতাসীন সরকারকে নিতে হবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার একাধিক কমিটি করেছে। সেইসব কমিটির রিপোর্টে মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক বলা হয়েছে। দেশের মানুষের কাছে এ রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে খুলনার শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনসহ মুশতাক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদকারী গ্রেফতারকৃত সকলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। তারা গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্য বদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। তারা বলেন, এ সরকার ভাত-ভোটের নিশ্চয়তা দেয়ার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসে গত বার বছরে ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়িয়েছে। দশ টাকায় যে চাল জনগণকে দেয়ার কথা বলেছিল সেই চালের কেজি এখন পঞ্চাশ টাকা। সরকার বাজার সিন্ডিকেটের প্রশ্রয়দাতা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মন্ত্রীসভাও ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।