মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম বিকল্প গড়ার মাধ্যমে দেশকে সমাজতন্ত্রমুখীন করার অঙ্গীকার
Posted: 13 মার্চ, 2021
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র দুই দিনব্যাপী জাতীয় পরিষদের সভা আজ ১৩ মার্চ সমাপ্ত হয়েছে। সিপিবি কার্যালয় মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে পার্টি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-এর সভাপতিত্বে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।
সভায় বলা হয়, সরকার চূড়ান্তভাবে জনবিচ্ছিন্ন। পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নীল নকশার নির্বাচন পুনরায় প্রমাণ করলো এ সরকার মানুষের ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে না। এ সরকার গত বারো বছর ধরে জগদ্দল পাথরের মত জনগণের উপর চেপে বসে আছে। সভায় বলা হয়, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম গড়ে তুলে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠনকারী কর্তৃত্ববাদী এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া মুশতাক আহমেদ কারাগারে নয় মাস নিপীড়নের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সভায় বলা হয়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলা নয়। দুঃশাসকদের বিরুদ্ধে কথা জনগণের নাগরিক অধিকার। সভায় বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
সভায় অন্য এক প্রস্তাবে বলা হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রবেশ করছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। লুটেরা বুর্জোয়াদের চারটি দল দু’টি জোটে বিভক্ত হয়ে গত ৫০ বছর ধরে দেশ শাসন করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে পরিচালিত না করে লুটেরা ধনিকদের স্বার্থ পরিচালনা করছে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সকল ধরনের বৈষম্য থেকে দেশকে মুক্ত করা। কিন্তু গত ৫০ বছরে শহর-গ্রাম, ধনী-গরিবের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশ পরিচালিত না হয়ে লুটেরা ধনিকগোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশকে সমাজতন্ত্রমুখীন করার অঙ্গীকার করা হয়।
সভায় বছরব্যাপী স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী পালনের জন্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে চেয়ারম্যান ও মোহাম্মদ শাহ আলমকে আহ্বায়ক করে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট সিপিবি’র সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।