Revolutionary democratic transformation towards socialism

ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ফলাফলে দেশবাসী হতাশ ও ক্ষুব্ধ -সিপিবি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে আজ ৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সমঝোতা স্মারক ও বিবৃতিতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত বিষয়সমূহ প্রায় সর্বাংশে উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে হলেও ভারতের বেশ কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহকে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের একতরফা সুবিধা গ্রহণের নতুন আরেকটি নিদর্শন। এর আগেও বারবার ভারতকে একইভাবে একতরফা সুবিধা দিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত সম্পর্কে বৈরী মনোভাব সঞ্চিত হচ্ছে। এটি ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের জন্য ক্ষতিকর ও প্রতিবন্ধক। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহ থেকে বাংলাদেশের পানি প্রাপ্তির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হলেও, বাংলাদেশ কর্তৃক ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তিতে রাজী হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতে ‘এলপিজি’ রপ্তানির বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতি ও জনগণের সাথে প্রতারনা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সমর্থন জানাতে অনাগ্রহ প্রদর্শন করেছে। অপরদিকে আসামসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যসমূহে নাগরিকপঞ্জি করে অনাগরিক ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার হুমকির প্রেক্ষিতেও কেবলমাত্র ভারতীয় সরকারের ‘আশ্বাসে বিশ্বাস’ করে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়টি বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে বঙ্গোপসাগর পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতের ২০টি রাডার বসানোর যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তা এ অঞ্চলের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোকে ভুল বার্তা পাঠাবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা চুক্তি, সীমান্তে মানুষ হত্যা, ভারতের নাগরিকপঞ্জি এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের জোরালো ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল ও সংবাদ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এ সফর বাংলাদেশের মানুষের জন্য হতাশা ও বঞ্চনা নিয়ে এসেছে। দুই দেশের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহ উভয় দেশের জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বার্থবাদী মহলকে সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশ-ভারতের প্রকৃত বন্ধুত্ব যে দুই দেশের ক্ষমতাসীন শাসক-শোষকগোষ্ঠীর হাতে নিরাপদ নয়, তা এবারও আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বাংলাদশের স্বার্থ পরিপন্থী চুক্তি থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..