Revolutionary democratic transformation towards socialism

সিপিবি-বাসদ-এর সমাবেশে কমরেড সেলিম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলুন


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশের ভবিষ্যত চিরতরে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য তাদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। ১ জন আদিবাসী নিহত হয়েছেন। দফায় দফায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করা হয়েছে। চারিদিকে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে। এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জোট আহূত দেশব্যাপী ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। আজ ৮ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশে তিনি সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে কমরেড সেলিম আরো বলেন, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি আর লুটপাটের রাজনীতি এখন একাকার হয়ে গেছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে। সরকার সংখ্যালঘুদের রক্ষায় কার্যকর কিছু

করছে না। রাষ্ট্র সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বুর্জোয়া দলগুলোর নগ্ন প্রতিযোগিতা রয়েছে। এখন সেটা বুর্জোয়া দলের অভ্যন্তরীর দলাদলির মধ্যে এসে ঠাঁই নিয়েছে। বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটসঙ্গী করে রেখেছে। আর সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে তাদের সাথে আপস করে চলেছে। এই অবস্থায় বাম-প্রগতিশীল শক্তির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সমাবেশে কমরেড কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ বাড়ছে। তাদের সম্পত্তি দখলের উৎসব চলছে। একের পর এক হামলা হয়, কিন্তু কোনো হামলারই বিচার হয় না। সরকার হামলাকারীদের রক্ষা করে চলেছে। সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা লুটপাটের স্বার্থেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। হামলার পর স্থানীয় এমপি, মন্ত্রীর নিস্পৃহতা, সংখ্যালঘুদের গালিগালাজ, শাসানো নতুন হামলার প্রেক্ষিত তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সব সময় দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..