Revolutionary democratic transformation towards socialism

বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বক্তব্য


প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
শুভেচ্ছা জানবেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রবল শীতের মধ্যেও উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষ্যে আমরা যেসময় আপনাদের সামনে মিলিত হয়েছি, তখন চালসহ নিত্যপণ্যের ঊর্দ্ধমূল্যের কারণে বাজার অস্থির। প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে সরকার ক্ষমতায় বসে জনগণকে আতংকিত করার জন্য বলছে যে, আগামীতে নানা সংকট আসতে পারে। জনসমর্থনহীন সরকার ও গণতন্ত্রহীনতাই এই আশংকার জন্ম দিচ্ছে এবং জিইয়ে রেখেছে।
এই রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক জটিল সংকটের সময়ে আন্দোলনকারী শক্তি হিসাবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,
অবাধ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গণদাবি ও জনমত উপেক্ষা করে গত ৭ জনুয়ারি ২০২৪, দেশে নির্বাচনের নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয়, একতরফা, নতুন ধরনের এক প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা, গুরুতর অসঙ্গতি এবং নানামুখী আলোচনার মধ্যেই অবিশ্বাস্যরকম দ্রুততার সাথে সংসদ সদস্যদের শপথ ও মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে।
অতীতের স্বেচ্ছাচারী সরকার ও নির্বাচনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সরকার যখন একদলীয় একতরফা প্রহসনের নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে এগিয়ে চলছিল তখন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই কার্যক্রম থেকে সরকারকে বিরত রাখার দাবি যেমন আমরা করেছি, তেমনি বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ অন্যান্য প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সংগঠন, ব্যক্তিবর্গ এই নির্বাচন বর্জন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। ভোট কেন্দ্রে এবং ভোটের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় আমাদের আহ্বানে জনগণের নীরব ও সরব সমর্থন ছিল লক্ষণীয়।
নির্বাচনে অধিকাংশ দল ও ব্যক্তি অংশগ্রহণ করছে এটি দেখাতে সরকার ন্যূনতম নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীর বাইরে নিজ দলের লোককে দিয়েই কোথাও ডামি, কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থী করা, নতুন নতুন কিংস পার্টি তৈরি করে তাদের প্রার্থী করা, আর আগে থেকে সরকারের তাবেদারি করে বা নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে যাদেরকে একত্রিত করা যায় সেই সব দলের নামে প্রার্থীদের জড়ো করার চেষ্টা করে। নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ও ভাগাভাগির এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানোর এবং ভোটে জনগণের ও অনেক দলের অংশগ্রহণ দেখানোর চেষ্টা করা হয় ।
অতীতে দেখা গেছে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য জনগণকে ভয় ভীতি দেখিয়ে বলা হতো ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নাই। ভোট কেন্দ্রে না গেলেও ভোট হয়ে যেত, এটা সবার জানা। এবারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভোটারদের অনুরোধ করে ভোট দিতে নয়, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এটি ছিল প্রকাশ্য বক্তব্য। এর বাইরে নানা হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, লোভ দেখানোর মধ্য দিয়েই ভোটকেন্দ্রে জনগণকে জড়ো করার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন এলাকার তথ্য বলছে এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্ডধারী দেশের এক কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ আর তাদের পরিবারকে প্রধান টার্গেট করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় বলা হয় ভোটকেন্দ্রে না গেলে এসব সুযোগ-সুবিধা বাতিল হবে। অনেক জায়গায় কার্ড জমা নেওয়া এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব জায়গায় ভয় দেওয়ার সাথে নানা ধরনের প্রলোভনও দেখানো হয়। নানা বাধা নিষেধ সত্ত্বেও ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যমে এবং স্যোসাল মিডিয়ায় দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গায় ভোটার না হলেও কিশোর যুবকদের নগদ টাকা দিয়ে জড়ো করা হয় দিনভর ভোটকেন্দ্রে থাকার জন্য। সাংবাদিক ও কথিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল কেন্দ্রে গেলে প্রয়োজনমতো লাইনে দাঁড়ানোসহ নানামুখী কাজে তাদেরকে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রার্থীরাও আত্মীয়তা, স্থানীয় পরিচিতিসহ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনার প্রচেষ্টা নিয়েছে। এরপরেও ভোটারদের টানতে পারেনি।
নির্বাচনের পূর্বে দেশব্যাপী বাম জোটের পক্ষ থেকে দেশের মানুষকে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত সভাসমূহে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে নেতৃবৃন্দ বুঝেছেন এই নির্বাচনে জনগণের আগ্রহ নেই, মানুষের কথা শুনে মনে হয়েছে ‘এই ভোটে সাধারণ মানুষের মন নেই'। মানুষ তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা দেখে বুঝতে পারে এটা লোক দেখানো নির্বাচন। যার ফলাফল আগেই নির্ধারিত।
ভোট শেষে এই চিত্রই দেখা গেল। আন্দোলনকারীদের বক্তব্যের বাইরেও নৌকা মার্কার পরাজিত প্রার্থী, আওয়ামী লীগ দলের সদস্য হিসেবে, নেতা হিসেবে সুপরিচিত অথচ স্বতন্ত্র হেরে যাওয়া প্রার্থী, জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের প্রার্থী, কিংস পার্টির প্রার্থীসহ হেরে যাওয়া প্রার্থীদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভোটের আসল চিত্র বেরিয়ে আসছে।
এসব প্রার্থীদের কথায় প্রধানত যা ফুটে উঠেছে তা হল :
সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরে নির্ভর করেছে হারা জেতা। এর জন্য ছাপ্পা ভোট, প্রশাসনিক কারসাজিসহ নানামুখী কারসাজি করা হয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দলের প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নিজস্ব ভোট কেন্দ্রে কিছু মানুষ ভোট দিতে গেছে।এছাড়া অন্যান্য সেন্টারে দুই/ তিন, পাঁচ, দশ জন মানুষ ভোট দিতে গেছে। ভোট কেন্দ্রে মানুষ ছিল না। সময় সময়ে যেসব জটলা দেখা গেছে তা ছিল ভোটার না এমন জমা করে রাখা লোকদের লোক দেখানো সমাবেশ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়, সরকারি দল আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থক বা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিশ্চিহ্ন করার কাজটি সম্পন্ন করেছে। যা অতীতের একদলীয় শাসনের দিকে যাত্রারই ইঙ্গিত বহন করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোট তার সাধ্য মত আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে এর বাইরে শাসক শ্রেণির ক্ষমতা প্রত্যাশী অংশ আন্দোলনে জনগণের উপর নির্ভর না করে, বিদেশ নির্ভর হয়ে পড়ে। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা প্রত্যাশী উভয় দেই বিদেশিদের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এই বিদেশ নির্ভরতা দেশের রাজনীতিকে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী শক্তিকে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেয়। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকীস্বরূপ।
এরই সুযোগ নিয়েছে বিদেশিরা। নিজেদের হিডেন এজেন্ডা বাস্তবায়নে নির্বাচন ইস্যুতে অনেকদিন ধরেই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। অন্যদিকে আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী দেশ ভারত, তার সাথে চীন ও রাশিয়ার আনুকূল্য ও সমর্থনে নির্বাচন করেও সরকার শান্তি ও স্বস্তিতে নেই। নির্বাচন প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য আলাদা ভিসা নীতিও ঘোষণা করে। তামাশার নির্বাচনে গঠিত এই সরকার সম্পর্কে মার্কিনী ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে বিভিন্ন মহলের নজর রয়েছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং লুটপাট বহাল রাখতে মার্কিনীদের খুশি করতে সরকার আইপিএস, সাগরের গ্যাস ক্ষেত্রসহ দেশের কোন কোন স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়- সেটাই দেখার জন্য দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
সরকার একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করে দেশে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা আরও পাকাপোক্ত করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
সরকার এর আচরণ, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা আর নির্বাচনী পরিস্থিতিতে দেখা যায়, দেশের গণতন্ত্রহীনতায় নির্বাচন ব্যবস্থা আজ ভঙুর, সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাসনে চলে গেছে। বর্তমান ও অতীতের ক্ষমতাসীনদের শুধুমাত্র ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করা, মুক্ত বাজারের লুটপাটের অর্থনীতির ধারায় চলমান বাজারী রাজনীতি এই সংকটকে আরো গভীর করে তুলেছে। এরা রাজনীতিকেও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। দুর্বত্তায়িত রাজনীতির ফলে লুণ্ঠনকারীরা আজ এসব দলের চালকের আসনে বসে আছে। রাজনীতির এই বৃত্ত ভাঙ্গা না হলে অপরাজনীতি দূর করার পথ পরিষ্কার হবে না। এ অবস্থার পরিবর্তন ছাড়া জনগণের ন্যূনতম ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা যাবে না। বামজোট দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য আন্দোলন জারি রেখেছে। একই সাথে আমরা বলে আসছি যে চলমান ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে শোষণমূলক ব্যবস্থার বদল করেই মানুষের সংকট দূর করতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ, সুশাসন নিশ্চিত করা যাবেনা। এজন্য নীতি আদর্শহীন শোসকশ্রেণির রাজনীতির বিপরীতে নীতি-নিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে শোষণমূলক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার বাংলাদেশ তথা সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যে সকল নীতিনিষ্ঠ বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলতে হবে। শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে এবং শাসকগোষ্ঠীর কোন অংশের প্রতি নির্ভর করে অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না ।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা নি¤œলিখিত দাবিসমূহ উপস্থাপন করছি
    চলমান রাজনৈতিক সংকট দূর করতে একদলীয়, অগ্রহণযোগ্য, জনসমর্থনহীন প্রহসনের নির্বাচনে ঘোষিত সংসদ ভেঙে দিয়ে, তামাশার নির্বাচনে গঠিত সরকারের পদত্যাগ করে অবিলম্বে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে।
    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা চালু এবং গ্রাম শহরে রেশনিং ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যে দোকান চালু করতে হবে।
    শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য বাঁচার মতো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, কৃষি ফসলের ন্যায্য মূল্যসহ উৎপাদক ক্রেতা সমবায় গড়ে তুলতে হবে।
    প্রহসনের নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামায় যে সম্পদ দেখানো হয়েছে তার প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করা এবং এই সম্পদের বাইরে আরও সম্পদ আছে কিনা তা তদন্ত করে ওই তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ্য ভাবে তুলে ধরতে দুদক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। প্রকৃত হিসাব দিতে না পারা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ অনৈতিকভাবে সম্পদ আহরণের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
    লুটপাট দুর্নীতি বন্ধ, খেলাপী ঋণ উদ্ধার, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
    শাসক বুর্জোয়া দলসমূহের নতজানু নীতির ফলে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী শক্তির দেশের জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশকে তাদের স্বার্থে ব্যবহারের যে সুযোগ খুঁজছে সে বিষয়ে এবং দেশের রাজনৈতিক সংকটে বিরাজনীতিকরণের সব ধরনের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি।
    নির্বাচনের আগে ও পরে দেশব্যাপী সংঘাত সংঘর্ষ, হামলা-মামলা,দমন পীড়ন, ভয়ের পরিবেশ তৈরির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধ, গ্রেফতারকৃত সকল রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং কালো আইন বাতিলেরও দাবি জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
উল্লেখিত দাবি আদায়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
এসব দাবিতে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানেরও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ জনজীবনের সংকট দূর, সম্পদ লুটপাটকারীদের শাস্তির দাবিতে দুদক, এনবিআর এর সামনে অবস্থান, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এসব দাবি আদায়ে আন্দোলনে শক্তি সমাবেশ ঘটাতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় এবং যুগপৎ ধারায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অতীত সংগ্রামের ইতিহাস থেকে আমরা জানি জনগণের প্রকৃত জাগরণ ছাড়া বিদ্যমান অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না ।
বিভিন্ন সময়ে দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকার নানা কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। কোনো কোনো দেশে দুই-তিন দশকও দীর্ঘ হয়েছে এমন দুঃশাসন। কিন্তু জনগণ জেগে ওঠার পর সেই শাসকরা আর টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশেও এই মুহূর্তে লুটেরা শাসকশ্রেণির নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন জনগণের ঘাড়ে চেপে বসেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক- সব দিক থেকেই শোষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দুর্নীতি, লুটপাট, মূল্যবৃদ্ধির যাতাকলে দুঃসহ হয়ে উঠেছে জীবন। সার্বিক পরিস্থিতিতে মানুষ ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে। নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগ্রামে আশার আলো দেখাতে পারলেই জনগণ জেগে উঠবে। গণজাগরণের সেই সম্ভাবনাকে রাজপথে বাস্তব রূপ দিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট তার দায়িত্ব এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।
শাসক বুর্জোয়াশ্রেণির উভয় রাজনৈতিক বলয়ের গণবিরোধী ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার করার সংগ্রাম বাম গণতান্ত্রিক জোট অব্যাহত রাখবে। বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব দাবি আদায়ে দেশবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ছাত্র যুব নারী সংস্কৃতিক কর্মীসহ সবাইকে নিজস্ব দাবিতে ও ভোটাধিকার, গণতন্ত্রের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলন গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
আমরা তাই আহ্বান জানাই, দেশ ও মানুষ বাঁচাতে, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী এই সরকারকে হটিয়ে বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে জনগণ এগিয়ে আসুন। আমাদের মিলিত সংগ্রাম দুর্নীতি দুঃশাসন ও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কষাঘাত থেকে মানুষকে শান্তি ও স্বস্তি দিবে নিশ্চয়ই।

প্রিয় বন্ধুগণ
এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শোনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী আমাদের কথা জানতে পারবেন।

ধন্যবাদসহ
(রুহিন হোসেন প্রিন্স)
সমন্বয়ক
বাম গণতান্ত্রিক জোট।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..