বিশেষ ট্রাইবুন্যালে রিলিফ লুটেরাদের বিচারের দাবি জানিয়ে দেশব্যাপী সিপিবি’র ঘৃণা ও ধিক্কার দিবস পালন

Posted: 07 মে, 2020

করোনা-মহামারির বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট গণদুর্যোগের সুযোগে কিছু ‘অমানুষ’ লুটেরাদের রিলিফ লুটপাটের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানিয়ে, বিশেষ ট্রাইবুন্যালে লুটেরাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও উপযুক্ত পন্থায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)উদ্যোগে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। আজ ঢাকায় সকালে শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে ও পুরানা পল্টন মোড়ে কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেলে বাহাদুর শাহ পার্ক, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর, মিরপুর ছাপাখানা মোড়, মগবাজার মোড়, কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডসহ ঢাকার বিভিন্ন থানায় কর্মসূচি পালিত হয়। শাহবাগের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পার্টির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনীক রায় ও পুরানা পল্টনের কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান, সংগঠক ও ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমরেড অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পাদক কমরেড মঞ্জুর মঈন, ঢাকা কমিটির সদস্য কমরেড মুশরিকুল ইসলাম শিমুল। উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সদস্য কমরেড সাদেকুর রহমান শামীম। চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বগুড়া, সিলেট, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, চলমান করোনা-মহাসংকটে জাতির সমস্ত শক্তি-সামর্থ্য নিয়োজিত করে তা মোকাবিলার জন্য সিপিবি ও বাম জোট বারবার সরকারের কাছে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিলেও আমরা বিভিন্ন প্রগতিশীল-বামপন্থী দল ও গণসংগঠনের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত পরিমণ্ডলে জনগণকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু করোনা-মহামারি মোকাবিলায় যখন নানা ধরনের উদ্যোগ চলছে, তখন কতিপয় দানবীয় শক্তি এই পরিস্থিতিতে সক্রিয়ভাবে লুটপাটে নেমে পড়ছে। কৃষককে চালের দাম থেকে বঞ্চিত করা, গার্মেন্টশ্রমিকদের ৪০% বেতন কেটে নেয়া, দুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা-অনুদান আত্মসাৎ করা ইত্যাদির মধ্যদিয়ে এই অপশক্তি ভয়ংকর গণশত্রু হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। দুই কোটি পরিবারের সাহায্যের প্রয়োজন থাকলেও, মাত্র ৫০ লাখ পরিবারকে সাহায্য দেয়া হবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। সেনাসহায়তায় ত্রাণ বিতরণ ও রেশনকার্ড প্রদান না করায়, নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দলীয়করণসহ নানা গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট মজুতদারির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে জনজীবনে সংকট আরো গভীরতর করে তুলছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, লুটেরা-গণশত্রুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। কিন্তু সরকার মুখে অনেক কথা বললেও, বর্তমান সংকটকালে লুটেরা-গণশত্রুদের মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। নেতৃবৃন্দ বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে রিলিফ লুটেরাদের যথোপযুক্ত শাস্তি বিধানের দাবি জানান। সেইসাথে নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেঁচে থাকার স্বার্থে করোনা-মহাসংকটকালে দানবসম লুটেরা শক্তিকে প্রতিহত করা, আজ গণমানুষের ‘ফরজ’ কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।