করোনা সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বাম জোটের উদ্যোগে আগামী ১৩ এপ্রিল সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে

Posted: 10 এপ্রিল, 2020

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভা গতকাল ০৯ এপ্রিল এবং আজ ১০ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:৩০টায় ও শুক্রবার বিকেল ৪টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্স সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী কমরেড জুনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা কমরেড মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা কমরেড শহিদুল ইসলাম সবুজ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক। সভার এক প্রস্তাবে দেশের ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা, শ্রমজীবী-হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, কৃষিতে মনযোগহীনতা, ত্রাণ স্বল্পতা ও বিতরণে দুর্নীতি, দলীয়করণ, চুরি এবং সর্বোপরি সংকট মোকাবেলায় সরকারের সমন্বয়হীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পৃথিবীর কোন দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কোন দেশ এককভাবেও এ সংকট মোকাবেলা করতে পারবে না, এজন্য বৈশ্বিক পারস্পরিক সহায়তা প্রয়োজন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মত দিয়েছে। ফলে আমাদের দেশেও সরকার বা সরকারি দলের একার পক্ষে এ সংকট মোকাবেলা সম্ভব না বিধায় আমরা শুরু থেকেই এ পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের ঐক্যবদ্ধ করে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার এখনও আমাদের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় পরিস্থিতি ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সভা থেকে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত এ সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সর্বদলীয় সভা আহ্বানের জন্য পুনরায় সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। এবং সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে করোনা সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসে সীমিত সম্পদ-সামর্থ্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা সংকট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ ও সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ১৩ এপ্রিল সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে সকল বাম-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বাম জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দলের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং সকলেই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। সভার অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, দেশে এতদিন একটি মাত্র ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখা গেলেও বাস্তবে যখন পরীক্ষার ল্যাব বাড়ানো হয়েছে তখন দেখা যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সভার প্রস্তাবে সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার ল্যাব বিস্তৃত করা এবং রেনডম পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা সনাক্ত, আইসোলেশন ও চিকিৎসার উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি নির্দিষ্ট হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা সুনির্দিষ্ট করা, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সারাদেশে জেলা-উপজেলায় স্টেডিয়ামসমূহে ফিল্ড হাসাপাতাল স্থাপন করে প্রয়োজনীয় সনাক্তকরণ কীট, সকল চিকিৎসক-চিকিৎসাসেবা কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ এবং তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য বীমা সরকারি উদ্যোগে করার দাবি জানানো হয়। সভার প্রস্তাবে দেশের শ্রমজীবী, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও নিন্ম আয়ের মানুষদের ঘরে ঘরে আগামী ৬ মাসের খাদ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা, মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্প মূল্যে রেশনিং এর ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। এ পর্যন্ত যে ত্রাণ সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল যাতে ৭০/৮০ ভাগ হতদরিদ্র মানুষ ত্রাণ পাচ্ছে না। এছাড়া সরকারের ত্রাণ বিতরণে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চুরির ঘটনাও ঘটে চলেছে, যা ইতিমধ্যে সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে। সভায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য খাদ্য শষ্য মজুদ বাড়ানো এবং আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়তের জন্য সরকারি উদ্যোগে ব্যবস্থাপনার দাবি জানানো হয়। একই সাথে হাওরের ধান কাটার জন্য বিশেষ মনযোগ দাবি করা হয়। সভার প্রস্তাবে এমূহুর্তে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা বাজেট বরাদ্দ করে চিকিৎসা সেবাসহ স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি-কৃষক রক্ষায় মনযোগ দেয়া এবং সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানানো হয় এবং মৎস্য, পোল্ট্রি, ডেয়ারীসহ কৃষি উৎপাদন, বিপনন চেইন সুরক্ষাও বিশেষভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় অন্যথায় সামগ্রীক সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।