‘দেশের আর্থিক খাত ও অর্থনীতির অবস্থা ভালো’- এই প্রচারণা চালিয়ে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে - কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Posted: 10 মার্চ, 2020

বরিশালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দেশরক্ষা অভিযাত্রা সমাবেশে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন ‘দেশের আর্থিকখাতসহ অর্থনীতির অবস্থা ভাল’ এই প্রচারণা চালিয়ে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে প্রতারণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং জনগণের সাথে এই প্রতারণার অপরাধে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আজ ১০ মার্চ মঙ্গলবার, বিকালে বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে কমরেড মোতাহার মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে ‘ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু গদির বদল নয়, বামপন্থীদের নেতৃত্বে ব্যাবস্থা বদলের সংগ্রামের আহবানে দেশরক্ষা অভিযাত্রা সমাবেশে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম একথা বলেন।’ তিনি আরো বলেন, সেরা অর্থমন্ত্রী দাবীদার অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন ‘ব্যাংকের অর্থ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, লুটপাট ঠেকানো যাচ্ছে না।’ কমরেড সেলিম আরো বলেন, লুটেরাদের অর্থ পাচার বন্ধের হিম্মত সরকারের নেই, শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা নেই বরং সঞ্চীয় আমানতের সুদের হার অর্ধেকের বেশি নামিয়ে লুটেরাদের লুটপাটের বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চালিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা চরম অন্যায়। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহ করতে হবে। সমাবেশের কমরেড সেলিম আরো বলেন, ২০ বছরে পাকিস্তানের ২২ পরিবার যে পরিমাণ সম্পদ পাচার করেছে গত দশ বছরে দেশের ১% লুটেরা ধনিক গোষ্ঠী তার চেয়ে দশ গুণ বেশী অর্থ বিদাশে পাচার করেছে। পাকিস্তান আমলের অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অস্র হাতে লড়াই করতে হয়েছে সে সময়। পাকিস্তান আমলের বিদ্রোহ যদি ন্যায়সঙ্গত হয়ে থাকে তবে দেশের নব্যপাচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক। এই দ্রোহে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে পাওয়া যাবে না। কারণ তারা লুটেরা পাচারকারীদের দল। কমরেড সেলিম বলেন, লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকে দেয়া যায় না। মানুষের সংশয়ের প্রশ্ন, তাহলে কি আবার হাওয়া ভবন ও জামাত-শিবির আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে! তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি এ নিয়ে সংশয়ের কারণ নেই।’ আওয়ামী লীগকে অপসারণ করে এবার বামপন্থীদের নেতৃত্বে সৎ দেশপ্রেমিক নিয়ে সরকার গঠন করবে আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এটা সম্ভব হবে দেশের কোটি মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই। দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে কেবলমাত্র গদির বদল নয়, ব্যবস্থার বদল করতে হবে। সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম বলেন, বর্তমান সরকার দেশে কোন গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় চালাচ্ছে না বরং দেশকে গণতন্ত্রহীনতা ও পুলিশী রাষ্ট্র কায়েম করেছে। যার ফলে দেশে লুটপাট নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যাবস্থা পাল্টানোর জন্য বামপন্থিদের রাজপথে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বিকল্প নেই। তাই আমরা সিপিবি বামপন্থি সৎ দেশপ্রেমিকদের ঐক্যের ডাক দিয়েছি। সেই আহবানে অনেকেই ঐক্যমত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে সেই আহ্বান পৌঁছে দিতেই আমরা বিভাগীয় সমাবেশ করছি। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ শ্রমিকনেতা মাহবুবল আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য লুনা নূর, বরগুনা জেলা সিপিবি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম, পিরোজপুর জেলার সভাপতি দিলীপ পাইক, পটুয়াখালী জেলার সাধারণ সম্পাদক সমীর কর্মকার, ঝালকাঠি জেলার সাধারণ সম্পাদক হরি দাশ, ভোলা জেলার নেতা মোনায়েম চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম।