নারী পুরুষের সমতার বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হবে : কমরেড সেলিম

Posted: 07 মার্চ, 2020

## আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিপিবির সমাবেশ ও র‌্যালি আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ সমাজব্যবস্থা কায়েম রেখে নারীর মুক্তি বা নারীর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়, নারীর জন্য সমতার সমাজ গড়তে হলে এ সমাজব্যবস্থাকে পাল্টাতে হবে। পুঁজিবাদ নারীকে পণ্যে পরিণত করে তার মুনাফা অর্জনের জন্য নারী অধস্তনতা, নারী নির্যাতন এবং বৈষম্যের সকল উপাদানকে টিকিয়ে রাখে, কাজেই নারীমুক্তির মূল শত্রু পুঁজিবাদকে রুখে দেয়ার মধ্য দিয়ে নারীমুক্তির লড়াইকে বেগবান করতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ ৭ মার্চ ২০২০ সিপিবি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড এ এন রাশেদা, কৃষক আন্দোলনের নেত্রী কমরেড লীনা চক্রবর্তী, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মাকসুদা আক্তার লাইলী, নারীনেত্রী শাহানারা বেগম, কুলসুম আক্তার। সভা পরিচালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেত্রী কমরেড লুনা নূর। কমরেড সেলিম বলেন, নারী মুক্তির লড়াই একটি রাজনৈতিক মতাদর্শিক লড়াই। সমাজে নারীর অবস্থান কি হবে তা আসলে নির্ভর করে নারীর প্রতি রাষ্ট্রের কি দৃষ্টিভঙ্গী তার উপর। পুঁজিবাদ নারীকে পণ্যে পরিণত করে, মৌলবাদ নারীকে অধীনস্ত লিঙ্গে পরিণত করে এ দুই সমভাবে নারীমুক্তি ও নারীর সমাধিকারের বিরোধী শক্তি, কাজেই এ দুয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে যা প্রকারন্তরে সমাজ পরিবর্তনের লড়াই। কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস শ্রমিক নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অর্জন। ন্যায্য মজুরি-শ্রমঘণ্টা বণ্টনের আন্দোলন আজ যারা বিশ্বের নারী মুক্তির লড়াইয়ের অফুরান প্রেরণার দিবসে পরিণত হয়েছে। বক্তারা বলেন, পুঁজিবাদ নারী দিবসের তাৎপর্যকে গ্রাস করে তাকে একটি ভোগবাদী দিবস হিসেবে উদ্যাপন করেছে। এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। রাষ্ট্রে বিচারহীনতা ও জবাবদিহীতার অভাব সর্বোপরি গণতন্ত্রহীনতার কারণে নারী-নির্যাতন-শোষণ বেড়েই চলেছে, কাজেই নারী মুক্তির লড়াই নারীর স্বাধীনতা এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য সমান তালে পরিচালিত করতে হবে। আলোচনা সভার আগে একটি র‌্যালি ঢাকা শহরের মূল মূল রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।