সরকারের আর্থিক নীতি লুটপাটকে উৎসাহিত করছে ব্যাংক-বীমা-আর্থিকখাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

Posted: 08 ফেব্রুয়ারী, 2020

### সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত-স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি তহবিলে জমা নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল কর বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, কেন্দ্রীয় পরিচলনা পরিষদের শীর্ষ নেতা সিপিবির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের আর্থিক নীতি ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং লুটপাটকে উৎসাহিত করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে গত এক যুগ ধরে যে আর্থিক নীতি অবলম্বন করে চলেছে অর্থাৎ বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক ১ পরিবার থেকে ৪ জন এবং পরপর ৩ মেয়াদে পরিচালক থাকতে পারা যা বেসরকারি ব্যাংক লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে যা ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ফার্মার্স ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক যার পরিণতি ভোগ করছে। দ্বিতীয়ত খেলাপী ঋণ এর অবলোপনের সিদ্ধান্ত এবং ঋণখেলাপীদের ২% টাকা দিয়ে ঋণের খেলাপী থেকে মুক্তি এবং ১০ বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের রেয়াত ঘোষণা - তৃতীয়ত সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া। চলতি বাজেটে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কথা থাকলেও আর্থিক বছরের ৬ মাসেই ৪৯ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। যার ফলে ইতিমধ্যে ব্যাংকে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চতুর্থত এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সম্প্রতি সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ৬১টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেয়ার বিধান সম্বলিত বিল সংসদে পাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংকটের শেষ পেরেক ঠোকা হলো। যা শিক্ষা বোর্ড, ধান গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, বিপিসিসহ বিভিন্ন সরকারি আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত-স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। বিবৃতিতে ব্যাংক-আর্থিক খাতের এহেন গণবিরোধী ও লুটপাটের নীতি পরিহার করে উপরোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে লুণ্ঠনকারী ঋণখেলাপীদের পাহারাদার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল-ব্যক্তি-গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।