তাজুলের আত্মত্যাগ বৃথা যাবার নয়, গণতন্ত্র ও শোষণমুক্তি আসবেই

Posted: 01 মার্চ, 2020

## শহীদ তাজুল দিবসে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মহান শহীদ কমরেড তাজুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শহীদ কমরেড তাজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়েও ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে এদেশের শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বদলি শ্রমিকের কাজ নিয়ে আদমজী পাটকলে শ্রমিকদের সংগঠিত করেছিলেন। এরশাদ স্বৈরাচারের গুণ্ডারা তাঁকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কমরেড তাজুল নিজের মতাদর্শগত চেতনায় এবং পার্টির নির্দেশে স্বৈরাচারবিরোধী হরতাল সফল করতে গিয়ে জীবন দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু এক মহান মৃত্যু। কিন্তু তাঁর জীবন সংগ্রাম আরো মহান। ৩৬তম শহীদ তাজুল দিবসে আজ ১ মার্চ মুক্তিভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদেনের পর অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম। জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মনজুরুল আহসান খান, খালেকুজ্জামান, মোহাম্মদ শাহ আলম, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মানস নন্দী, আনিসুর রহমান মল্লিক, শ্রমিকনেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ফজলুল হক মন্টু, আবুল কালাম আজাদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল প্রমুখ। কমরেড সেলিম আরো বলেন, শহীদ তাজুলের আত্মদান আজও প্রাসঙ্গিক। তাজুলের মত এক ঝাঁক শিক্ষিত তরুণ নিজের ব্যক্তিগত জীবন তুচ্ছ জ্ঞান করে সমষ্টির মুক্তির জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়বে এটাই যুগের দাবি। একটা শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লড়াইকে এগিয়ে নিতে তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। সিপিবি’র উপদেষ্টা কমরেড মনজুরুল আহসান খান বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে কমরেড তাজুলের নেতৃত্বে শ্রমিকরা সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিল। স্বৈরাচারী অত্যাচার থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আজ শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে জাগরণ প্রয়োজন। শ্রমিক আন্দোলনে তাজুলের মতো আরো অসংখ্য নেতৃত্ব তৈরি হলে শ্রমিক আন্দোলন দালাল মুক্ত করে জোরালো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি শোষণ বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, কমরেড তাজুল শোষকশ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। আজ মালিকদের দ্বারা শ্রমিক শোষণের নির্মমতা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তিনি কমরেড তাজুলের ন্যায় মালিকশ্রেণির শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পার্টি সদস্য-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, কমরেড তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠ শেষে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সিদ্ধান্ত অনুসারে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করার মহান ব্রত নিয়ে আদমজী মিলে বদলি শ্রমিকের চাকরি নেন। আদমজীতে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন সিপিবি’র আদমজী শাখার সম্পাদক ও আদমজী মজদুর ট্রেড ইউনিয়নের নেতা। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ দেশব্যাপী আহূত শিল্প ধর্মঘট ও হরতালের সমর্থনে আগের দিন মধ্যরাতে আদমজী জুটমিল এলাকায় কমরেড তাজুলের নেতৃত্বে শ্রমিকরা প্রচার মিছিল বের করলে, তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের গুণ্ডাবাহিনীর হামলায় কমরেড তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক মারাত্মক আহত হন। ১ মার্চ ভোরবেলা গুরুতর আহত অবস্থায় কমরেড তাজুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শহীদ তাজুল স্মৃতি বেদিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন আজ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিভিন্ন দল, সংগঠনের পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে শহীদ তাজুলের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদি ফুলে ফুলে ভরে যায়। প্রথমে সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণসংহতি আন্দোলন, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, সাপ্তাহিক একতা, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, সিপিবি’র বিভিন্ন জেলা ও থানা শাখাসমূহ। এছাড়াও শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।