বাম জোটের জরুরি সভার প্রস্তাব

Posted: 31 জুলাই, 2019

সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের মোচনীয় ব্যর্থতা ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণে ডেঙ্গু মহামারীতে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরে আপাদকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি। বন্যাদুর্গত অধিকাংশ অঙ্গনে কোন খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি আজ ৩১ জুলাই সকালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের জরুরি সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করা হয়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোচনীয় ব্যর্থতা ও চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে। গায়ের জোরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অস্বীকারের প্রবণতা পরিস্থিতির আশংকাজনক অবনতি ঘটিয়েছে; ডেঙ্গু এক ধরনের মহামারীতে রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও মৃত্যুঝুঁকিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিযে মেয়র ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ অপরাধতুল্য কাজ করেছেন। প্রস্তাবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকা মহানগরীতে আপদকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সর্বাত্মক ও সমন্বিত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে জরুরি ভিত্তিতে মশা নিধনে কার্যকরী ওষুধ আমদানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে ছুটি ঘোষণা করে পর্যাপ্ত ফিল্ড হাসপাতাল চালু এবং ডেঙ্গুর পরীক্ষা ও চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকারের বহন করার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সপরিবারে বিদেশ সফরকে চরম কা-জ্ঞানহীন ও দায়িত্বের প্রতি ক্ষমাহীন অবহেলা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে বরখাস্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবে দায়িত্বহীনতার জন্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে ডেঙ্গু মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সভায় গৃহীত আর এক প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের ২৫টি জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষ বন্যাপীড়িত হলেও সরকারি ত্রাণ তৎপরতা খুবই অপ্রতুল। বন্যাদুর্গত অধিকাংশ পরিবারের কাছে এখনও পর্যন্ত খাদ্য, ওষুধ, নগদ টাকা ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। সরকারি তৎপরতা বেশির ভাগই প্রচারসর্বস্ব। বন্যাদুর্গত অধিকাংশ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রস্তাবে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্য, ত্রাণসামগ্রী, নগদ অর্থ ও পুনর্বাসনে কার্যকরি উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানানো হয়। বন্যাকবলিত অঞ্চলসমূহে কৃষিঋণ মওকুফ করারও দাবি জানানো হয়। সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে দুর্নীতি, লুটপাট, হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যার ঘটনাকে ‘সামাজিক নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় এবং বলা হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক কর্তৃত্ব না থাকায় সামাজিক অনাচার ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ৫ আগস্ট নগরভবন অভিমুখে বিক্ষোভ সভায় ডেঙ্গু মহামারী মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতা ও মেয়রদের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ৫ আগস্ট বেলা ১২টায় নগরভবন অভিমুখে বিক্ষোভের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সিপিবি কার্যালয়ে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুস সাত্তারেরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুলহাস নাইন বাবু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, রাজেকুজ্জামান রতন, আকবর খান, প্রমুখ।