গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সিলিন্ডারের দাম কমানো, জনদুর্ভোগের বাজেটের প্রতিবাদে ৭ জুলাই দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালনের আহ্বান

Posted: 02 জুলাই, 2019

# বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কামানোর দাবিতে এবং জনদুর্ভোগের বাজেটের প্রতিবাদে আগামী ৭ জুলাই ২০১৯, রবিবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস (সকাল ৬টা-দুপুর ২টা) হরতাল সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আজ ২ জুলাই ২০১৯, সকাল ১১টায় মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা মমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী বিইআরসি আবারো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ছাড়া বাসা-বাড়ী, বিদ্যুৎ, সার, শিল্প-কারখানা, সিএনজি, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ সকল ক্ষেত্রে গড়ে ৩২.৮% গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ঘাটতি মিটাতে গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধির কথা হয়েছে। কিন্তু বিইআরসি-র গণশুনানীতে কোম্পানিসমূহের প্রতিনিধিগণ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং গণশুনানীতে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশষজ্ঞদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধির ফলে আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়বে, বাড়বে বাসাবাড়ী, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানিসহ জনজীবনের ব্যয়। কৃষিসহ শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন আরো দুর্বিসহ হয়ে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় এই সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতকে লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্র হিসিবে পরিণত করেছে। সরকার গত দশ বছরে তাদের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপর্যুপরি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আসছে। এবারো গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে জনগণের পকেট কেটে সরকার ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের টাকা যোগাতে। যে এলএনজি আমদানির ঘাটতি মেটানোর কথা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে সেই এলএনজি প্রতিহাজার ঘনফুট বাংলাদেশ আমদানি করে ১০ ডলারে; আর ভারত আমদানি করে ৬ ডলারে। লুটপাটের টাকা যোগান দিতে গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি জনগণ মেনে নেবে না। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে জনগণ নিয়মিত অর্থের যোগান দিয়ে আসলেও গত দশ বছরে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে স্থলে ও সমুদ্রে দেশের গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যকর ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। সরকারের এই ভুলনীতি এবং দুর্নীতি-লুটপাট দেশকে এলএনজি নির্ভরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে যুক্তিযুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আমরা একই নীতি দেখে আসছি। এর পিছনে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ আছে। সরকারের এই অপতৎপরতা মেনে নেয়া যায় না। দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে। সিলিন্ডার ব্যবসাও ব্যবসায়ীদের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার ক্ষেত্র বানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় বাজেটে কৃষিখাত, শিল্পখাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে। নেই কর্মসংস্থানের কোন দিকনির্দেশনা। বিশাল খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকগুলোর বেহাল অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোন দিকনির্দেশনা নেই। উপরন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বাড়বে দ্রব্যমূল্য। নিম্ন আয়ের মানুষে জীবনে নাভিশ্বাস উঠবে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি খাত থেকে ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে বিশাল বরাদ্দ অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ করে ফেলবে। লুটেরা বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠীর বিদ্যমান ব্যবস্থায় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দুর্নীতি ও লুটপাটের যে সংস্কৃতি চালু আছে, এবারের বাজেটে সরকার তা উলঙ্গভাবে প্রকাশ করেছে। তাই এই বাজেট লুটপাট ও দুর্ভোগের বাজেট। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় হরতাল সফল করতে ৩ জুলাই বিভিন্ন থানায় প্রচার মিছিল। ৪ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গাবতলী অভিমুখে পদযাত্রা, বিভিন্ন থানায় গণসংযোগ। ৫ জুলাই গণসংযোগ। ৬ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে যাত্রাবাড়ী অভিমুখে পদযাত্রা, বিভিন্ন থানায় থানায় মিছিল। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মশাল মিছিল করা হবে।