নাগরিক শোকসভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম শোষণমুক্তির সংগ্রামে-রক্ত পতাকা মিছিলে বেঁচে থাকবেন সৈয়দ আবু জাফর আহমদ

Posted: 28 জুন, 2019

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের নাগরিক শোকসভা আজ ২৮ জুন ২০১৯, শুক্রবার, বিকেল ৪টায় ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সৈয়দ আবু জাফর আহমদ তাঁর গোটা জীবনকে মানবমুক্তির লক্ষ্যে উৎসর্গ করেছেন। তিনি শোষণমুক্তির সংগ্রামে একনিষ্ঠভাবে আমৃত্যু নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। দেশের এই সংকটকালে সৈয়দ আবু জাফর আহমদের মৃত্যুতে প্রগতিশীল রাজনীতি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মনজুরুল আহসান খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, ঐক্য ন্যাপের সহসভাপতি এসএমএ সবুর, অ্যাড. তোবারক হোসেন, সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, সৈয়দ আবু জাফর আহমদের কন্যা তাহরিমা রুবাইয়াৎ প্রান্তি। শোকসভা পরিচালনা করেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। সভায় সৈয়দ আবু জাফর আহমদের জীবনালেখ্য পাঠ করেন কমরেড মো. কিবরিয়া। নাগরিক শোকসভার শুরুতে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের প্রতিকৃতিতে সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। পরে প্রয়াত নেতার স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোকসভায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করে। শোকসভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে পার্টির নীতি-আদর্শ ও রাজনৈতিক লাইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপসহীন ও ধারাবাহিক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে তিনি শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, সৈয়দ আবু জাফর আহমদ অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। আবার আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন বজ্র-কঠোর মনোভাবাপন্ন। রাজনৈতিক কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তাঁর একাগ্রতা আমাদের জন্য অনুসরণীয়। সিপিবি সভাপতি দলের প্রয়াত প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, সৈয়দ আবু জাফর আহমদের জীবন থেকে আজকের দিনের বিপ্লবীদের শিক্ষা নিতে হবে। সৈয়দ আবু জাফর আহমদ স্মরণে সিপিবি’র প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মনজুরুল আহসান খান বলেন, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য যিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি মৃত্যুহীন। তেমনই একজন বিপ্লবী সৈয়দ আবু জাফর আহমদ। এই মহৎপ্রাণ কমিউনিস্ট নেতা এদেশের শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবেন। কমরেড মনজুর আরও বলেন, সৈয়দ আবু জাফর আহমদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারে হলেও তিনি কেবলমাত্র সেখানকার নেতা ছিলেন না। নিজের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণে তিনি সারা বাংলাদেশের বাম গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বের কাতারে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি কেবলমাত্র তত্ত্বগত চর্চায় আবদ্ধ ছিলেন না, বরং ক্ষেতমজুর, চা শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ দেশের মেহনতি মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, এদেশের শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার জন্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোকে পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সৈয়দ আবু জাফর আহমদের অকাল প্রয়ান এদেশের বাম গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, বিলোপবাদীদের আক্রমণের মুখে পার্টি রক্ষা করা থেকে শুরু করে পার্টির বিকাশ এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ আবু জাফর আহমদের ভূমিকা আমাদের পার্টিতে এবং এদেশের মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি সৈয়দ আবু জাফর আহমদের লড়াইয়ের রক্ত পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে রাখবে এবং তাঁর দেখানো পথে শোষণমুক্তি অভিমুখী সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাবে।