লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষায় দাম বাড়ানো প্রতিহতের আহ্বান গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে সিপিবি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

Posted: 03 মার্চ, 2019

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে গ্যাসের দাম বাড়াতে মন্ত্রীর ঘোষণাকে অযৌক্তিক ও লুটেরা ব্যবসায়ী, কমিশন ভোগীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে আখ্যাহিত করে এই প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। আজ ৩ মার্চ, রবিবার বিকালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম। বক্তব্য রাখেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি’র অন্যতম সম্পাদক জলি তালুকদার। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলে বিইআরসি গণশুনানীতে জনস্বার্থ লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান, কিছু ব্যক্তি এবং সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। বক্তারা ১১ মার্চের শুনানীকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে গ্যাসের দাম কামানো, প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে গণশুনানী আয়োজনের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট-দুর্নীতি চলছে। সরকার তা বন্ধ না করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা বলছে। পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। বক্তারা বলেন, সরকার সাধারণ জনগণের পকেট কাটার এবং বড় লোকের পকেট ভরাট করছে। আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় নিয়মিত উচ্চ-চাপে গ্যাস ও সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের দাবি জানানো হয়। বক্তারা গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অপচয় বন্ধ ও দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা শতভাগ মালিকানা নিশ্চিতভাবে স্থলে ও সমুদ্র বক্ষের গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং এলএনজি আমদানির নামে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ব্যবসায়ী, কমিশন ভোগীদের পকেট ভারী করার অপনীতি বন্ধের দাবি জানান। বক্তারা বলেন লুটেরারা উৎপাদন, বণ্টন ও সেবা খাত দখল করে অর্থনীতিকে দখল করে ফেলেছে এবং তারা রাজনীতি কুক্ষিগত করেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে সার, বিদ্যুৎ, শিল্পে-এর নীতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরো বেশি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে উল্লেখ করে বক্তারা সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।