ঢাকাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে সিপিবি ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে নীরব প্রতিরোধ প্রদর্শন করল সরকারের ধারাবাহিক ভোট ডাকাতিতে বিক্ষুব্ধ নগরবাসী

Posted: 02 মার্চ, 2019

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের ভোটাররা ভোট দানে বিরত থাকায় নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে মাত্র ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন না থাকলে ভোটের পরিমাণ আরো কম হতো। ক্ষমতাসীনদের ধারাবাহিক ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে ভোট কেন্দ্রে অনুপস্থিত থেকে ভোটাররা যে নীরব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনকে তামাশা ও প্রহসনে পরিণত করেছে। তার সাথে সহযোগি হয়েছে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রার্থীবিহীন নির্বাচন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের ১৫৩ জন প্রার্থীকে জিতিয়ে এনেছিল। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়ায় ঘোষিত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর রাতেই নৌকা মার্কায় সীল মেরে বাক্স ভরে রেখেছিল। ‘ভুয়া ভোটের’ মাধ্যমে এবার তারা নিজেদের ২৯৩ জন প্রার্থীকে জিতিয়ে নিয়েছে। এতে অনেক কেন্দ্রে ৯০% এর বেশি ব্যালটে নৌকায় সীল মেরে তারা নির্বাচনকেই হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যেসব কেন্দ্রে নৌকা মার্কা ৯০% এর বেশি ভোট পেয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি সেসব কেন্দ্রেই নৌকা মার্কা ২০% থেকে ৩০% ভোট পেয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট হতাশা থেকেই মানুষ নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা দেশে ফ্যাসিবাদী নিপীড়ন আরো বিস্তৃত করবে। নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক শ্বাসরূদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য গণআন্দোলন অংশ নিতে এবং গণআন্দোলনকে গণঅভূত্থানে পরিণত করতে দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসতে আহ্বান জানান।