ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ

Posted: 03 ফেব্রুয়ারী, 2019

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, উপনিবেশিকবাদের যুগ শেষ হয়েছে, নতুন করে তা সহ্য করা হবে না। ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের শান্তিকামী জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চাপিয়ে দেয়া নয়া উপনিবেশিকবাদকে প্রতিরোধ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি আরো বলেন, অনেক বছর ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভেনেজুয়েলায় তাদের পুতুল সরকার বসানোর ষড়যন্ত্র করছে। লাখো জনতার অভ্যুত্থানে বামপন্থিরা সেটাকে প্রতিরোধ করেছে। বর্তমানে বামপন্থি মাদুরো সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্য চালানো হচ্ছে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র। ভেনেজুয়েলার স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকারকে অন্যায়ভাবে উৎখাতের জন্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সামরিক চাপ প্রয়োগ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং নাশকতামূলক তৎপরতায় নানাভাবে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমানে মার্কিনের এই আগ্রাসী তৎপরতা চরম আকার ধারণ করেছে। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আজ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার বিকেল ৪টায় ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সিপিবি-র কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ কিবরিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হাসান তারিক চৌধুরী, ঢাকা নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শিবনাথ চক্রবতী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকী আক্তার। সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ লুণ্ঠনের জন্যই সাম্রাজ্যবাদ মরিয়া হয়ে এই বেআইনী তৎপরতা চালাচ্ছে। ল্যাটিন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এক সূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেরকম নগ্নভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরুদ্ধাচরণ করেছে, ঠিক তেমনিভাবে আজ ভেনেজুয়েলায় জনগণের ন্যায্য সংগ্রামের বিরুদ্ধেও সে একইভাবে দাঁড়িয়েছে। সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ভেনেজুয়েলাকে সংকটের চূড়ায় ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব জনমতকে চরমভাবে উপেক্ষা করে প্রতিক্রিয়াশীল অনির্বাচিত হুয়ান গুইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সুস্পষ্টভাবে ভেনেজুয়েলার সংকটকে তীব্র করেছে। একই সাথে কূটনৈতিক শিষ্টাচারকে লঙ্ঘন করে সেদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। এভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সমাবেশ থেকে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। সমাবেশ শেষে ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ করে একটি প্রতিবাদ মিছিল রাজধানীর পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।