ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী’র (হাতি প্রতীক) ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার’ ঘোষণা

Posted: 16 এপ্রিল, 2015

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রিয় নাগরিকবৃন্দ আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমাদের প্রিয় শহর বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এখানে রয়েছে ভেজাল, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও লুটপাটের সমস্যা। এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ আমরা চাই। আমরা চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাসম্পন্ন নগর প্রশাসন ও নগর নেতৃত্ব। আমরা দরিদ্র বস্তিবাসী ও শ্রমজীবীদের জন্য চাই উপযুক্ত নাগরিক সেবাসমূহের সুবিধা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সুযোগ-সুবিধা। নারী-শিশু-যুবরা চান একটি নিরাপদ নগর। মধ্যবিত্তরা চান সম্মানসহ বাঁচতে। উৎপাদনশীল ধনিকরা চান চাঁদাবাজি-মাস্তানিমুক্ত ব্যবসার পরিবেশ। সর্বোপরি নগরের সকল শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আমরা সবাই চাই একটি সবুজ পরিবেশবান্ধব, যানজটমুক্ত ঢাকা। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্নের ঢাকা আমরা পাব কিভাবে? এতসব চাওয়া কিভাবে অর্জন করা যাবে? আমি এসব চাওয়াগুলি পুরনের লক্ষ্যে অনেক ভেবে-চিন্তে আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারে সুনির্দিষ্ট ৭১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরছি। আপনারা এটি পাঠ করলে বুঝতে পারবেন আমার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট এবং এগুলি ফাঁকা বুলি নয়। আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই প্রতিশ্রুতিগুলি আদায় ও বাস্তবায়নের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা ও আত্মত্যাগ করবো। আমার দল, জোট ও নাগরিক কমিটি আমাকে সকল শক্তি ও সমর্থন যোগাবে যদি আপনারা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত ঢাকা নগরের জন্য আগ্রহী হন, তাহলে আমাকে আপনাদের ভোট দিতেই হবে। একটি আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে আপনাদের দাঁড়াতে হবে। নির্বাচনে হার-জিত থাকে। কিন্তু নির্বাচনের সর্বোচ্চ প্রকাশ হচ্ছে আপনাদের মূল্যবান ভোট। সেই ভোটের মাধ্যমে একটি নীতিনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণই হচ্ছে নির্বাচনের প্রকৃত গণতান্ত্রিক মর্মবস্তু। আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের কাছে সেটাই আমার দাবি ও প্রার্থনা। সম্মানিত ঢাকাবাসী এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি অঙ্গীকার ঘোষণা করছি যে: ১. সরকারের ৮টি মন্ত্রণালয়ের ৫৬টি প্রতিষ্ঠান ঢাকাবাসীকে সেবা প্রদানে নিয়োজিত। এসব সংস্থা সমন্বয়ের জন্য নগর সরকার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। নগর সরকার আইন প্রণয়নের জন্য সরকার ও সংসদকে অনুরোধ করবো এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় জনমত গড়ে তোলা হবে। ২. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ বলে বর্তমান সিটি প্রশাসন রাষ্ট্রপতি শাসিত ধরনের অর্থাৎ মেয়রের কাছে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, এর পরিবর্তনের জন্য প্রচষ্টো গ্রহণ করা হবে। পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত আইনের আওতায় থেকেই সংসদীয় পদ্ধতি তথা কাউন্সিলরদের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। শহরের অধিবাসীদের কর্পোরেশনের কর্মকান্ডে সাথে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তার অবসান ঘটিয়ে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা হবে। কর্পোরেশনকে এর অধিবাসীদের জীবনের প্রাসঙ্গিক করে তোলা হবে। ৩. সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান সেবাকে ই-সেবায় রূপান্তর করা হবে, যাতে করে কোন নাগরিককে নাগরিক সেবা পাবার জন্য কর্পোরেশন ভবনে আসতে না হয়। নাগরিকগণ সেবাসমূহ মোবাইলে ও অনলাইনে পাবেন। ৪. সেবার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের ২৪/৭ কল সেন্টার থাকবে। এতে করে নাগরিকগণ যেকোন সময়ে তার যেকোন সমস্যা-অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবা সর্ম্পকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন। ৫. ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়সমূহকে নাগরিক সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান কাজ ও সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে, যাতে করে নাগরিকগণ তার পার্শ্ববর্তী কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সেবাসমূহ পেতে পারেন। ৬. সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহকে আইভিআর (ইন্টার্যাক্টভি ভয়সে রেসপন্স)-এর আওতায় আনা হবে। ৭. নাগরিকদের জন্য একটি কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম করা, যাতে করে মেয়র প্রতিদিন ড্যাশ বোর্ডে লাইভ দেখতে পাবেন-কোন অঞ্চলের কোন নাগরিক কী সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন এবং সমস্যাটির সমাধান হয়েেছ কিনা বা এটি কোন পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকগণও তার সমস্যাটি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, কোন ডেস্কে রয়েছে তা ট্রাক করতে পারবেন। ৮. যেকোন নাগরিক সিটি কর্পোরেশনের ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অথবা কল সেন্টারে যোগাযোগের মাধ্যমে মেয়রের অনলাইন এপয়েনমেন্ট নিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সময়ে তার সমস্যাসমূহ সরাসরি মেয়রকে জানাতে পারবেন। ৯. প্রতি ৩ মাসে একবার প্রতিটি ওয়ার্ডে মেয়র সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের সাথে বসবেন, তাদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন, বর্তমান কার্যক্রমসমূহ বর্ণনা করবেন এবং ভবিষ্যৎ কাজের পরিকল্পনা নাগরিকগণের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে। ১০. মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের কর্র্মকর্তাদের কর্মকান্ড ও হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ ও কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ১১. কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের উৎসাহ প্রদানে জনসেবা পদক প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ১২. সর্বক্ষেত্রে ই-টেন্ডার চালু করে কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ডও ক্রয় দুর্নীতি ও রাজনৈতকি প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। ১৩. বাজেটের পরিকল্পনা গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা ওয়েব সাইটে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যয়ের নিরীক্ষাও ওয়েব সাইটে যুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ১৪. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এ না থাকলেও মেয়র নিজের কর্মকান্ডতদারকির জন্য একজন অবৈতনিক স্বাধীন ন্যায়পাল নিয়োগ দেবেন। ন্যায়পাল তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে স্বাধীনভাবে সিটি মেয়রের কর্মকান্ড তদারকি এবং মেয়রের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ নগরবাসীর অভিযোগের নিষ্পত্তি করবেন। ১৫. বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যা সমাধান করা। তাদের পানি, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ফ্ল্যাট বরাদ্দ না দেয়া পর্যন্ত তাদের বস্তিতে নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার অধিকার স্বীকৃতি দেয়া হবে। পুনর্বাসন ছাড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের যে কোন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে কর্পোরেশন। ১৬. ঢাকা শহরের ৩৫% মানুষ বস্তি-ফুটপাতে ঘুমান। তাদের নিজস্ব কোন আবাসন নাই। সরকারের পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ পরিকল্পনায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে মাসিক কিস্তিতে ক্রয়যোগ্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ১৭. ঢাকা শহরের প্রায় ৮৩% মানুষ ভাড়া বাড়িতে থাকে। নানা অজুহাতে প্রতি বছর একাধিকবার বাড়ি ভাড়া বাড়ে। যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের বেতনের মূল অংশ ব্যয় হয় বাড়ি ভাড়ায়। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯৫ বাস্তবায়ন করে অধিকাংশ উত্তর ঢাকাবাসীর জীবনে স্বস্তি আনা হবে। ১৮. কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরে পর্যাপ্ত পরিষ্কার এবং নিরাপদ গণশৌচাগার গড়ে তোলা। পাবলিক টয়লেটগুলো ইজারা না দিয়ে কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালনা করা হবে। পাবলিক টয়লেট কর্পোরেশনের একটি সেবাখাত, তাই পাবলিক টয়লেট ফ্রি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। ১৯. কর্পোরেশনের উদ্যোগে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে অধ্যয়নে উৎসাহিত করা হবে। ২০. সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির মাসিক বেতন-ফি মনিটর করা হবে এবং বেতন-ফি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। ২১. পথশিশু এবং বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করা হবে। ২২. ভোটার তালিকায় থাকা নিরক্ষর ব্যক্তিদের ৫ বছর সময়কালের মধ্যে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করা। ২৩. শহরের বাড়ীর ছাদগুলোকে ব্যবহার করে সৌর-বিদ্যুত উৎপাদনে শহরবাসীকে উৎসাহিত করা হবে। নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে কর্পোরেশন। ২৪. আমাদের শহরের একটা বড় অংশের মানুষ স্বাস্থ্যসুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা উত্তরে একটি বড় সরকারি হাসপাতাল গড়তে সরকারকে অনুরোধ করা হবে। শহরে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে বিধি মোতাবেক নির্দিষ্ট সংখ্যক দুঃস্থ রোগীর বিনা খরচেয় চিকিৎসা প্রদানের কথা মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে কর্পোরেশন তদারকিতে তা নিশ্চিত করবে। ২৫. মশা-মাছির অত্যাচার থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে কর্পোরেশন সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ২৬. ঢাকা শহরের অধিকাংশ কাঁচা বাজার নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। প্রতিটি বাজারের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন দরকার। ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে কিনতে পারার অধিকার থেকে বঞ্চিত। পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত বাজার গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্রেতারা যাতে ন্যায্যমূল্যে কেনাকাটা করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে জনমত গড়ে তোলা হবে। ২৭. ফরমালিন ও বিষমুক্ত সবজি ও ফসল প্রাপ্তির জন্য প্রতি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক বিশেষায়িত (ফরমালিন ও বিষমুক্ত) বাজার স্থাপন করা হবে। ২৮. মাছের গুণগত মান ধরে রাখার জন্য প্রতি বাজারে ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে। ২৯. গবাদি পশু ও মুরগী জবাই করার জন্য কেন্দ্র্রীয় কসাইখানার উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত স্লটারিং এর ব্যবস্থা ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে । এতে বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগের বিস্তার রোধ সহজ হবে। ৩০. সিটি র্কপোরশেনের উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিমাণে গভীর নলকূপ স্থাপন বা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ট্যাংক স্থাপন করা হবে । কম আয়ের মানুষের বসতি যেখানে বেশি সেসব জায়গায় একাজে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৩১. কর্মজীবী বাবা-মায়েদের সুবিধার্থে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। ৩২. এলাকাভিত্তিক স্কুল বাসের ব্যবস্থা করা হবে । সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়ার টেনশন থেকে অনেক বাবা-মা রেহাই পাবেন। যানজট কমবে। ৩৩. ছিন্নমূল মানুষের (বিশেষ করে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ ও নারী) জন্য শেল্টার হোমের ব্যবস্থা করা হবে। ৩৪. প্রতিটি রাস্তায় বাইসাইকেল লেন চালু করা হবে। সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করা হবে। ৩৫. প্রশস্ত ফুটপাত হবে সকলরে জন্য উপযোগী, বিশেষ করে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক নকশা বাস্তবায়ন করা হবে। ফুটপাতগুলো দখল মুক্ত করা হবে। হকারদের স্থান সুবিন্যস্ত করা এবং বৈধভাবে কর দিয়ে ব্যবসা করার সুবিধা দেওয়া। ৩৬. পথচারীদরে সমতলে রাস্তা পারাপারে প্রয়োজনীয় স্থানসমূহে জেব্রা ক্রসিং, সাইন এবং সিগন্যাল স্থাপন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। ৩৭. পথচারীদের জন্য গাছের ছায়া, বেঞ্চ, ফুটপাতের লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। ৩৮. প্রাইভেট গাড়ী ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে পাবলিক পরিবহণের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাবলিক এরিয়ায় প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা হবে। ৩৯. যানজট নিরসনে জোড় এবং বেজোড় প্লেট নম্বরের প্রাইভেট গাড়ী একদিন অন্তর চালানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৪০. টেক্সিক্যাব ও সিএনজি চালকদের মিটারে যাতায়াত করতে বাধ্য করা হবে। খালি টেক্সিক্যাব-সিএনজি কোন যাত্রীকে গন্তব্যে যেতে না করতে পারবে না। চালকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত দৈনিক জমার বেশি যাতে মালিকরা নিতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। ৪১. যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারপাশে ওয়াটার, রেল, রোড সার্কুলার তৈরি করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় জনমত গঠন করা হবে। শহরের ভিতর দিয়ে পণ্য পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ৪২. আমাদের ঢাকা উত্তর শহরের মানুষের সামাজিকতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা যেমন মাঠ, পার্ক, উদ্যান সংরক্ষণ ও নতুন তৈরি করা। ৪৩. প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। সেন্টার কমপ্লেক্স, গণপাঠাগার গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। ৪৪. প্রতিটি ওয়ার্ডে বিদ্যমান পাঠাগারগুলোকে উৎসাহ প্রদানের জন্য কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হবে। কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠাগার গড়ে তোলা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে-উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগার গড়ে তুলতে অনুরোধমূলক নির্দেশনা প্রদান করা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠাগার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য ক্লাশ রুটিনে ব্যবস্থা রাখার জন্য কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়-উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে অনুরোধমূলক নির্দেশনা প্রদান করা হবে। ৪৫. নারীর জন্য ’নিরাপদ ঢাকা’ গড়া আমাদের অঙ্গীকার। যে শহর নারীর জন্য নিরাপদ সে শহর সকলের জন্য নিরাপদ। ৪৬. নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দুই সন্তান পর্যন্ত সকল নারীর গর্ভকালীন পুষ্টিভাতার নিশ্চয়তা তৈরি করবে কর্পোরেশন। নিরাপদ প্রসবের জন্য ১০০% প্রসব হাসপাতাল অথবা ডেলিভারি সেন্টারে নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নবজাতকদের একমাস পর্যন্ত চিকিৎসার ভার কর্পোরেশন বহন করবে। ৪৭. কর্মজীবী নারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন তৈরি করা হবে। নারীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন চালু করা হবে। ৪৮. যুব র্কমসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর্পোরেশনের উদ্যোগে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। ’সেলফ হেল্প গ্রুপ’ গঠন করে যুবকরা যে পরিমাণ পুঁজি গঠন করবে তার সমপরিমাণ কর্পোরেশনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেয়া হবে। সুদ নয় মুনাফার ভাগীদার হবে কর্পোরেশনরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তা সব শেয়ার বাইব্যাক করে নিজেরা প্রতিষ্ঠানটির মালিক হয়ে যাবে। এভাবে কর্পোরেশনের উদ্যোগে অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেবে। ৪৯. সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে (ফ্রি)’ওয়াইফাই ঢাকা’ করা হবে। সাথে সাথে ডাটা এন্ট্রি শিল্পের ব্যাপক ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি ফ্রি-ল্যান্স কাজ করে শিক্ষিত তরুণরা নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিংসহ যে সকল বাধা সামনে আসবে, তা দূর করতে কর্পোরেশন তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে। ৫০. আমাদের শহরে বাড়ির ছাদে বনায়নকে উৎসাহিত করা হবে। রাস্তা-জলাশয়ের পাশে বনায়ন করা হবে এবং সম্ভাব্য জায়গায় বড় রাস্তায় ছায়াদানকারী বৃক্ষ রোপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। ৫১. শাসকশ্রেণীর প্রভাবশালী লুটেরাদের হাত থেকে দখল হওয়া জলাশয়, খাল উদ্ধার করতে কর্পোরেশন সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ৫২. নদী দখলদারদের যথোপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করার জন্য জনমত গড়ে তুলবে কর্পোরেশন। খাল দখলদারদের উচ্ছেদ করবে কর্পোরেশন। ৫৩. শহরের অসহায় মানুষের জমি জোরদখল করে ল্যান্ড ডেভেলপারদের আবাসিক এলাকা গড়ার নামে যে ভূমিদস্যুতা, তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে দাঁড়াবে সিটি কর্পোরেশন। ৫৪. ভোর হওয়ার র্পূবে নগরের ময়লা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হবে। গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ধরন অনুযায়ী (জৈব লোহা ও প্লাস্টিক) তিন রঙের পাত্র সরবরাহ করা হবে। ৫৫. বর্জসমূহ ট্রিটমেন্ট করে বিদ্যুৎ, সার ও জৈব গ্যাস উৎপাদন করা হবে। ৫৬. নগরের সর্বত্র নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রয়োজনীয় স্থানে ওয়েস্ট বিন স্থাপন এবং জনসচতেনতার মাধ্যমে জনসাধারণকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস তৈরি করতে সাহায্য করবে কর্পোরেশন। ৫৭. বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত থেকে আচ্ছাদিত পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়া হবে। সড়কের ধুলা-বালি ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে যান্ত্রিক ভ্যাকুয়াম ট্রাক ক্রয় ও ব্যবহার করা হবে। ৫৮. আবাসিক এলাকায় কোন ধরনের কারখানা গড়তে দেওয়া হবে না। বিদ্যমান কারখানাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫৯. মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজর রাখবে কর্পোরেশন। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবসময় ব্যাপক অভিযান জারী রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের চক্র ভেঙে দেয়া হবে। ব্যবহারকারীদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনাতে কাউন্সিলিং করা হবে। ৬০. প্রতি বছর ‘প্রবীণ দিবসে’ ওয়ার্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে ৭০ এবং তদুর্ধ্ব নারী-পুরুষকে ঐ এলাকার শিশু-কিশোররা ফুল ও নানা ধরনের উপহার দিয়ে সম্মান জানাবে। প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জাগানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বয়স্কভাতা নিশ্চিত করা হবে। ৬১. প্রতিবছর ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল দিবসে কর্পোরেশনের উদ্যোগে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তদের ১৮ বছর পদার্পন উপলক্ষে ‘যুব দিবস’ পালিত হবে। তরুণদের কতগুলো হ্যাঁ কতগুলো না শপথ করানো হবে। দেশ-জাতির প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে। নিজের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করা হবে। প্রত্যেককে কবি সুকান্তের ‘আঠার বছর বয়স’ কবিতার কপি উপহার দয়া হবে। ৬২. আমাদের শহরের শারীরিক-মানসিকভাবে অক্ষম (ফিজিক্যালি চ্যালঞ্জেড) মানুষের জন্য সংবেদনশীল আবহাওয়া তৈরি করবে কর্পোরেশন। শিশু-কিশোরদের মূলধারার বিদ্যালয়সহ বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভের নিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে কর্পোরেশন। বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কাজের যোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে কর্পোরেশন। শারীরিক-মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনধারনের মতো অমানবিক বিষয়টির অবসান ঘটাতে কর্পোরেশন উদ্যোগ নেবে। শেল্টার হোম গড়ে তুলে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবে কর্পোরেশন। ৬৩. কর্পোরেশন আমাদের শহরে বসবাসরত সকল জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিকাশে সদা তাদের পাশে থাকবে। ৬৪. আমাদের শহরের দলিত মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্পোরেশন কাজ করবে। ৬৫. গার্মেন্ট শ্রমিকসহ শহরের গরিব এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য কারখানায় এবং ট্রাকসেলের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের সরকারি নীতি রয়েছে তাকে গভীর করতে কাজ করবে কর্পোরেশন। ক্রমান্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রেশনিং পদ্ধতি গড়ে তুলতে কর্পোরেশন সচেষ্ট থাকবে। ৬৬. মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণে সাধ্যমত সাহায্য করবে কর্পোরেশন। ৬৭. সিটি কর্পোরেশনের সিটিজেন চার্টার জনগণকে অবহিত করার জন্য উন্নুক্ত স্থানসমূহে প্রদর্শন করা হবে। ৬৮. আইন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ তার নাগরিকদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। যা ঢাকা শহরবাসীদের জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা। শহরে একটা পরিবারও নাই যারা ওয়াসার পানি না ফুটিয়ে নির্ধিদ্বায় পান করতে পারে। কখনো-কখনো সে পানি ফুটোনোর পরেও পানযোগ্য হয় না। নাগরিকদের সুপেয় পানি দেওয়ার জন্য জনমত গঠন করে ওয়াসার উপর প্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করবে কর্পোরেশন। গ্যাস-বিদ্যুত সমস্যা সমাধান এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অযৌক্তিক চাপিয়ে দেওয়া মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে কর্পোরেশন। ৬৯. পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলা হবে। ৭০. জলাবদ্ধতা-পয়নিঃষ্কাশন-পরিচ্ছন্নতা-মশক নিধন নিশ্চিত করা হবে। ৭১. রাস্তাঘাট মেরামত, খোড়াখুড়ি সমন্বয় করা হবে।