সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ১ অক্টোবর ২০১৮

Posted: 01 অক্টোবর, 2018

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ শুভেচ্ছা নেবেন। দেশের বর্তমান জটিল, উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমরা আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আপনারা অবগত আছেন যে, এই মাসের শেষ থেকে যেকোনো সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এ মুহূর্তে দেশে অনুপস্থিত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটি একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে বর্তমান সরকার। যেনতেনভাবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন সরকার মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচনের নামে নির্লজ্জ প্রহসনের আশ্রয় নিচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের “শক্তি প্রয়োগ”, সুচতুর কারসাজি, ধুরন্ধর ছল-চাতুরি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার মত্ত প্রয়াস চালাচ্ছে। এ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসমূহে ক্ষমতাসীনদের জোর জবরদস্তি জয়লাভে নির্বাচন কমিশনের সহায়তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর গণঅনাস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আচরণে আবারও প্রমাণিত হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো সুযোগ নাই। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ টাকার খেলা ও পেশিশক্তিনির্ভর বিদ্যমান গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল। সিপিবিসহ বাম গণতান্ত্রিক জোটের তিনটি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছিল। দলসমূহের প্রস্তাবে প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ, নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ও প্রশাসনিক কারসাজি বন্ধ, ইভিএম চালু করার তৎপরতা বন্ধ, দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ তৈরি, ‘না’ ভোটের বিধান চালু, অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ, ভোটারের ইচ্ছায় জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহার এবং সর্বোপরি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০১৮ বাম গণতান্ত্রিক জোট “ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রস্তাবনা” প্রদান করে যাতে ৫৪টি সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু দুঃখের কথা নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আরপিও সংশোধন করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং সরকারি দল ব্যতীত অন্যান্য দলসমূহ যে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের বিরোধিতা করেছিল সেই ইভিএম চালুর জন্য আরপিও সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে। তিন হাজার আট শত কোটি টাকার ইভিএম ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পরিবর্তে সরকারের ইচ্ছানুসারে একতরফা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে নিয়োজিত রয়েছে। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার খর্বিত হয়েছে ন্যাক্কারজনকভাবে। ‘১০ টাকা কেজি’ চাল দেয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নের নামে শাসকদলের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ। গুম, খুন, জেল, জুলুম, দমন-পীড়নের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে পিষ্ট দেশ। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বীভৎস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সড়কে মুত্যুর মিছিল চলছে। বেকারত্বে যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত হচ্ছে কোটি কোটি যুবক। দলীয়করণের কাছে পরাজিত হচ্ছে মেধা। মালিকদের খুশি করার জন্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি উপেক্ষিত। গ্যাস-বিদ্যুত-পানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। মানুষের সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সরকারের ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে। এক অসহনীয় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে দেশের মানুষ। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে প্রণীত হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮। দেশবাসীর আপত্তির মুখে ৫৭ ধারা বাতিলের পরিবর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট। আইনে পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’র ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পেশাগতভাবে সাংবাদিকগণ। হেনস্তার শিকার হবেন স্বাধীন চিন্তার মানুষরা। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ স্বাধীনতার পর থেকে গত সাতচল্লিশ বছর ধরে দেশ শাসন করছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি সামরিক-বেসামরিক পোষাকে। শাসকশ্রেণি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করছে। দেশে নানা ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বিবাদ-হানাহানির কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেসবের দুটি প্রধান রকমফের আছে। একটি হলো লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শোষকশ্রেণির মধ্যেকার আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ। অপরটি হলো শোষকশ্রেণি বনাম শোষিত-বঞ্চিত ব্যাপক জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-বিবাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-বিবাদ, এমনকি বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত এ দু’টি দলের ভেতরে ক্রমাগত চলতে থাকা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব-সংঘাত এসবেরই প্রধান উৎস হলো লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিবাদ। আমাদের সমাজে নয়া-উদারবাদী বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের ব্যবস্থাকে লালন করছে সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদ ও দেশি-বিদেশি লুটেরা ধনিক শ্রেণি। এরাই দেশের প্রকৃত শাসক গোষ্ঠী। লুটপাটের শোষণ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তারা নানা কায়দায় দেশকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় মেরুকরণভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলেছে। দেশবাসীর সামনে ‘নৌকা বনাম ধানের শীষের’ দ্বন্দ্বকে রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ও টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব হলো মূলত লুটেরা বুর্জোয়াদের তথা দেশি-বিদেশি শাসকশ্রেণির মধ্যকার গোষ্ঠীগত বিরোধ থেকে উৎসারিত। অথচ সমাজের মৌলিক দ্বন্দ্বটি হলো শাসকশ্রেণি বনাম ৯৫% জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-বিরোধ। শাসকশ্রেণির দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে সৃষ্ট নৈরাজ্য নিরসনের জন্যই অসাংবিধানিকভাবে সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় হাজির হয় শাসক শ্রেণিরই আরেকটি গোষ্ঠী। বাংলাদেশের গত সাতচল্লিশ বছরের ইতিহাসে বারবার এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বর্তমানে চলমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য এদেশের জনগণ দায়ী নয়। শাসকশ্রেণির দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মূলত এর জন্য দায়ী। এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর গত ২৮ বছরে এই দুই দল পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা এমনকি বুর্জোয়া গণতন্ত্রের রীতি-নীতি বিধি-বিধান কার্যকর ও চালু করতে পারেনি ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতন্ত্রে সংকট অব্যাহত আছে। সিপিবিসহ ৮টি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঘোষণায় বলা হয়েছে- “এই জোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রিক লুটেরা ধনিক শ্রেণির দ্বি-দলীয় অপরাজনীতির বাইরে জনগণের নিজস্ব বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা। বাম গণতান্ত্রিক জোট দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আন্দোলনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে চরম পুলিশী হয়রানি ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে এক মঞ্চে হাজির করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জাতীয় ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিপিবিসহ বাম-গণতান্ত্রিক জোটকে তারা এই সমাবেশে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানায়। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই সমাবেশে জোটগতভাবে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আপনাদের অনেকের হয়তো মনে আছে ২০০৪ সালের শেষভাগে বিএনপি-জামাত ও হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রথমে ১৪ দল পরে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠিত হয়েছিল। ১১ দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে গণফোরাম, ওয়ার্কার্স পাটি, সাম্যবাদী দলসহ কয়েকটি দল ১৪ দলে যোগ দিয়েছিল। ড. কামাল হোসেন ২৩ দফা রচনা করেছিলেন যাকে ‘মুক্তি সনদ’ আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এবার বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলকে নিয়ে ডা. বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠছে আওয়ামী দুঃশাসন অবসানের জন্য। এভাবে বারবারই দ্বি-দলীয় ধারার অবসান না ঘটিয়ে দ্বি-দলীয় ধারা কেন্দ্রিক দুঃশাসন আরো পোক্ত করা হচ্ছে। এই দুটি মেরুর মাধ্যমে দুঃশাসনের এমন মিউজিকাল চেয়ার খেলার অবসান ঘটানো আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দুঃশাসনের অবসানের পাশাপাশি বিকল্প গড়ার সংগ্রাম তাই আজ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ দেশে ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ চালু রয়েছে। ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ জন্ম দিয়েছে ‘লুটপাটের রাজনীতির’। এটিই হলো ‘দুঃশাসনের’ উৎস। শাসকশ্রেণির সঙ্গে জনগণের দ্বন্দ্বের মৌলিক এজেন্ডাটিকে সামনে এনে গণশক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে পারার মাধ্যমেই ‘দুঃশাসনের’ যুগের অবসান ঘটানো সম্ভব। এটি করতে হলে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ভিত্তি করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাওয়া লুটেরা ধনিকদের আধিপত্যের অবসান ঘটানো একান্ত আবশ্যক। সিপিবি’র সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মীবৃন্দ বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসন অবসানের জন্য জানকবুল করে লড়াই করছে। জেল, জুলুম মোকাবিলা করে রাজপথে লড়াইয়ে রয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম চালানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সমভাবে এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ দুটি হলো সংগ্রামের এই পর্বের যুগপৎ কর্তব্য। একটি কাজ আগে শেষ করে নেয়ার কথা বলে অপর কাজটিকে স্থগিত রাখা হবে ভুল। ‘বিকল্প’ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে ‘বিকল্প’ নীতিতে দেশ পরিচালনা ব্যতীত ‘দুঃশাসনের’ অবসান ঘটানো সম্ভব না। সিপিবি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট যুগপৎ আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ও দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এক দুঃশাসন হটিয়ে আরেক দুঃশাসনকে জায়গা করে দেবে না। দুঃশাসনের চির অবসানের জন্য লড়াই জোরদার করবে। দুঃশাসন হঠাও, গণতন্ত্র বাঁচাও, দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোল-এই ডাক দিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় স্থানীয়ভাবে আগামী ৫ অক্টোবর, শুক্রবার, বিকাল ৩টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নীতি নির্ধারণমূলক বক্তৃতা রাখবেন। ধন্যবাদসহ মো. শাহ আলম সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি