সিপিবি’র সংবাদ সম্মেলন থেকে ৫ অক্টোবর সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের ঘোষণা দুঃশাসনের দ্বি-দলীয় মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার অবসান অপরিহার্য

Posted: 01 অক্টোবর, 2018

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরতে আজ ১ অক্টোবর ২০১৮, সকাল ১১টায় মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল, উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ, রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া, জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ টাকার খেলা ও পেশিশক্তিনির্ভর বিদ্যমান গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে দুঃশাসন হঠাও, গণতন্ত্র বাঁচাও, দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলো-এই আহ্বানে আগামী ৫ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, বিকেল ৩টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দ্বি-দলীয় ধারার অবসান না ঘটিয়ে দ্বি-দলীয় ধারা কেন্দ্রিক দুঃশাসন আরো পোক্ত করা হচ্ছে। এই দুটি মেরুর মাধ্যমে দুঃশাসনের এমন মিউজিকাল চেয়ার খেলার অবসান ঘটানো আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দুঃশাসনের অবসানের পাশাপাশি বিকল্প গড়ার সংগ্রাম তাই আজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি জননেতা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে শাসক শ্রেণির পরিচালিত প্রতিটি আক্রমণ সাহসের সাথে মোকাবিলা করছে। শুধু রুটি রুজির সংগ্রাম নয় অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য রাজপথে লড়াই করছে। এ আন্দোলনে আমাদের কর্মীদের রক্ত ঝরেছে। সিপিবি’র পাশাপাশি অন্যান্য বামপন্থী শক্তিও ভাত এবং ভোটের অধিকারের জন্য সামনে থেকে লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, স্বৈরশাসকরা নির্বাচন বিষয়টাকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। নব্বই পরবর্তী সরকারগুলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার আরো এক ধাপ অগ্রসর হয়ে নির্বাচনকে ‘ঐন্দ্রজালিক প্রহসনে’ পরিণত করেছে। কমরেড সেলিম আরো বলেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শাসক শ্রেণির সাথে জনগণের দ্বন্দ্বই প্রধান। তাই শাসকদের এক গ্রুপ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে রক্ষা পেতে আরেক অংশ বিএনপি’র আশ্রয় নিয়ে জনগণের দুর্দশার অবসান ঘটবে না। তিনি বলেন এই দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার মধ্য দিয়েই কেবল মাত্র বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম। উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারি সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সভাপতিম-লীর সদস্য কমরেড রফিকুজ্জামান লায়েক, কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সম্পাদক কমরেড আহসান হাবীব লাবলু, কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং কমরেড জলি তালুকদার। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার খর্বিত হয়েছে ন্যাক্কারজনকভাবে। ‘১০ টাকা কেজি’ চাল দেয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নের নামে শাসকদলের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ। গুম, খুন, জেল, জুলুম, দমন-পীড়নের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে পিষ্ট দেশ। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বীভৎস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সড়কে মুত্যুর মিছিল চলছে। বেকারত্বে যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত হচ্ছে কোটি কোটি যুবক। দলীয়করণের কাছে পরাজিত হচ্ছে মেধা। মালিকদের খুশি করার জন্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি উপেক্ষিত। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। মানুষের সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সরকারের ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে প্রণীত হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮। এক অসহনীয় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে দেশের মানুষ। লিখিত বক্তব্য আরো বলা হয়, সিপিবি বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসন অবসানের জন্য জানকবুল করে লড়াই করছে। জেল, জুলুম মোকাবিলা করে রাজপথে লড়াইয়ে রয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম চালানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সমভাবে এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ দুটি হলো সংগ্রামের এই পর্বের যুগপৎ কর্তব্য। একটি কাজ আগে শেষ করে নেয়ার কথা বলে অপর কাজটিকে স্থগিত রাখা হবে ভুল। ‘বিকল্প’ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে ‘বিকল্প’ নীতিতে দেশ পরিচালনা ব্যতীত ‘দুঃশাসনের’ অবসান ঘটানো সম্ভব না।