সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভার ঘোষণা “ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১” হারিয়ে যেতে দেব না গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ রুখে দাঁড়াও

Posted: 03 এপ্রিল, 2018

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে নৈরাজ্য চলছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমাগতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ন্যায়সংগত দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে সম্প্রতি ৭ শ্রমিকনেতাকে জেলে যেতে হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতার পাশাপাশি জনগণের জীবনে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। গণতন্ত্রহীনতা ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি দেশকে গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছে। আজ ৩ এপ্রিল পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. কিবরিয়া এবং রিপোর্ট পেশ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, শামছুজ্জামান সেলিম, মৃণাল চৌধুরী, অধ্যাপক এম এম আকাশ, এ এন রাশেদা, এমদাদুল হক মিল্লাত, ডা. দিবালোক সিংহ, এ কে আজাদ, আজহারুল ইসলাম আরজু, ডা. ফজলুর রহমান, এস এ রশীদ, ডা. মনোজ দাশ, শাহরিয়ার মো. ফিরোজ, ইসমাইল হোসেন, অ্যাড. মাকছুদা আখতার লাইলি, লুনা নূর প্রমুখ। সভায় কমরেড সেলিম আরও বলেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এখন প্রবল চাপে পড়েছে। মোটা চালের দাম আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। শ্রমিকদের জন্য ১৬ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। অথচ সংসার খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ‘প্রকৃত আয়’ কমে গেছে। কৃষকরা পানির দামে ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। লুটপাট, বৈষম্য বেড়েই চলেছে। লুটেরারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছে। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে সৃষ্টি হচ্ছে সংকট। জনগণের আমানতের টাকা দিয়ে ব্যাংক ডাকাতদের অপরাধকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। গুম, খুন, ধর্ষণ বেড়ে গেছে। অপরাধের বিভৎসতা বেড়েছে। সমাজের গাথুনীতে ধস নেমে এসেছে। এ সবই হলো দেশে বুর্জোয়া শাসনের ফলাফল। গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বলয়ের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটানো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বামপন্থি, গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য দৃঢ় করতে হবে। কমরেড সেলিম আরও বলেন, ৪৭ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধারা, মুক্তিযুদ্ধের ৪ মূল নীতি-গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ থেকে দেশ এখন অনেক দূরে সরে গেছে। ক্ষমতার রশি টানাটানিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছে। মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক নানা শক্তিকে তারা প্রত্যক্ষভাবে মদত দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। “ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১” কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেব না। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সভায় গৃহীত রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচনকে প্রহসন ও তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। নির্বাচনকে লুটেরা-ধনিক শ্রেণির পাতানো খেলায় পরিণত করা হয়েছে। নির্বাচনে জামানত বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেহনতি মানুষের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে আরও অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অর্থ সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে এক ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নির্বাচনের বাইরে রেখে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। জামানত বৃদ্ধি করা হলে নির্বাচনে আদৌ অংশগ্রহণ করবে কি না, তা সিপিবিকে ভেবে দেখতে হবে। অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকে টাকার খেলা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, প্রশাসনিক কারসাজিমুক্ত করতে হবে। তার জন্য সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুসহ নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। সভার প্রস্তাবে বামপন্থি, গণতান্ত্রিক, উদারনৈতিক নানা শক্তিকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়।