বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সিপিব-বাসদ ও বাম মোর্চার সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ

Posted: 12 ডিসেম্বর, 2017

বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও চাল, পেঁয়াজ, মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আজ সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ফদিরপুরে পুলিশি বাধার কারণে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সচিবালয় অভুমুখী বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করা না হবে ততক্ষণ লড়াই চলবে। বিদ্যুত কোম্পানিগুলো কর্তৃক নভেম্বর মাসের বিদ্যুত বিলের সাথে বর্ধিত বিল সংযুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে বর্ধিত দাম কার্যকর করা হলেও কোম্পানিগুলো প্রতারণাপূর্ণভাবে নভেম্বর থেকেই বিদ্যুতের বর্ধিত দাম জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, দশ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের স্লোগান দিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রার্থী-বিনা ভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন মোটা চালের কেজি ৬০/৭০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হতে দিয়ে দেশের আমজনতাকে ভাতে মারার ষড়যন্ত্র করছে। এ সরকার বাজার সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের লুটে নিতে সহযোগিতা করছে আর কমিশন হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী তহবিল গড়ে তুলছে। সরকারের যোগসাজশ ও নিস্পৃহতার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব-কদমফোয়ারা-পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের পাশের রাস্তা দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে পৌঁছলে পুলিশ সাঁজোয়া গাড়ি, জলকামান ও ব্যারিকেড দিয়ে বাধা প্রদান করে। সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার কর্মীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সেখানে অবস্থান নেয়। সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদীর) জহিরুল ইসলাম ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক বাচ্চু ভূঁইয়া। এখানে সারাদেশে কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আগামী কর্মসূচি : আগামী ২৭ ডিসেম্বর, বুধবার ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহে পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাখা কার্যালয়গুলোর সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।