সিপিবি কার্যালয়ে পুলিশের অবৈধ প্রবেশ ও নেতা-কর্মীদের উপর হামলায় সিপিবি নেতৃবৃন্দের তীব্র নিন্দা হামলা-নির্যাতন-গ্রেফতার করে দমিয়ে রাখা যাবে না

Posted: 30 নভেম্বর, 2017

বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার হরতাল শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৫টায় সিপিবি কার্যালয়ে পুলিশের অবৈধ প্রবেশ, ভাংচুর, রুমে রুমে তল্লাশি চালিয়ে ১১জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ জানিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম উপরোক্ত মন্তব্য করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের বারবার হুশিয়ারি সত্ত্বেও সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে উস্কানি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। হরতাল শুরুর আগেই পুলিশ বিনা উস্কানিতে সিপিবি কার্যালয়ে চার রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। সিপিবি কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলায় নেতা-কর্মীদের অবরুদ্ধ করে পাঁচতলা পর্যন্ত দখল করে নেয় পুলিশ। রুমে রুমে তল্লাশি করে পার্টির ১১জন ছাত্র-যুব-শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ও পরে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয় বঙ্গবন্ধু, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সব আমলেই আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন আমলে একাধিকবার আমাদের কার্যালয় অগ্নিসংযোগ করে ভস্মীভূত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ছাই থেকে কমিউনিস্টরা ফিনিক্স পাখির মত বেরিয়ে এসেছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি সামনের কাতারে থেকে লড়াই করেছে। শ্রেণি পেশার দাবির লড়াইয়ে সিপিবি পথ প্রদর্শক। সুতরাং ভয় দেখিয়ে, হামলা, নিপীড়ন, গ্রেফতার করে সিপিবি এবং তার নেতাকর্মীদের কাবু করা যাবে না। যে সকল পুলিশ অবৈধভাবে সিপিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাংচুর করেছে, নেতৃবৃন্দকে নির্যাতন করেছে, গ্রেফতার করেছে অবিলম্বে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। নেতৃবৃন্দ বলেন, গাইবান্ধায় আমাদের দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, ঢাকার মোহাম্মদপুরের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, খুলনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এ রশীদ ও জামালপুরে জেলা পার্টির সভাপতি মোজহারুল হক, সহকারি সাধারণ সম্পাদক মানিককে গ্রেফতার করা হয়। কিশোরগঞ্জে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড এডভোকেট এনামুল হকের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া ঢাকায় ছাত্রনেতা দীপক শীল, জহর লাল রায়, মোর্শেদ হালিম, নোবেল বড়ুয়া, যুবনেতা শাখারভ হোসেন সেবক, গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা জালাল হাওলাদার, কৃষক নেতা নিমাই গাঙ্গুলী, ক্ষেতমজুর নেতা মোতেলব হোসেন, পার্টি নেতা আহমেদ তালাত তাহজীব, খুলনায় ছাত্রনেতা উত্তম, জামালপুরে ছাত্রনেতা সুজনসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে ছেড়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আগামীকালকের প্রতিবাদ কর্মসূচি সিপিবি কার্যালয়ে পুলিশের অবৈধ প্রবেশ, হামলা ও ভাংচুর এবং সারাদেেশ সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দেশব্যাপী দলীয় ও জোটগত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।