নির্বাচন কমিশনের সাথে সিপিবি’র মতবিনিময় সভায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জাতীয় সংসদ নির্বাচন `নির্বাচন কমিশনের’ অধীনে অনুষ্ঠান করতে হবে- কোনো সরকারের অধীনে নয়

Posted: 12 অক্টোবর, 2017

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে আজ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নেতৃবৃন্দ পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনাব কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কমিশনারবৃন্দ জনাব মাহবুব তালুকদার, জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম, জনাব কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহদাৎ হোসেন চৌধুরী (অবঃ), সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমেদ অংশ নেন। সিপিবি’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, সহকারি সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কমরেড রফিকুজ্জামান লায়েক, কমরেড মিহির ঘোষ, কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদকবৃন্দ কমরেড আহসান হাবীব লাবলু, কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স ও কমরেড জলি তালুকদার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার শুরুতেই আলোচ্যসূচি উত্থাপন করেন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমেদ। আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল- আইনি কাঠামো সংস্কার, সীমানা পুনঃনির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের নিরীক্ষা এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। সিপিবি’র পক্ষে আলোচনার সূচনা করেন পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। কমরেড সেলিম বলেন, পাকিস্তান আমলে মানুষ সার্বজনীন ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছে। বাংলাদেশ আমলে বিশেষ করে দুইটি সামরিক শাসকের আমলে ’আমার ভোট আমি দিব’ দাবিতে সংগ্রাম করেছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ জাতির সামনে এসেছিল। কিন্তু ’৯০ এর পরবর্তী ক্ষমতাসীন দলগুলোর ক্ষমতালীপসার কারণে বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতেই পারেনি। স্বৈরাচার আমলের মত নির্বাচনকে পুনরায় তামাশায় পরিণত হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ঘটনা আজ এমন অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে যে, চলতি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানো ব্যতিত তার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে কমরেড সেলিম বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সংকুচিত করে তার অন্তবর্তীকালীন কাজ তত্ত্বাবধায়নমূলক ও অত্যাবশ্যক রুটিন কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ’নির্বাচন কমিশনের’ অধীনে অনুষ্ঠান করতে হবে- কোন সরকারের অধীনে নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে কমরেড সেলিম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে যেকোন রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। কমরেড সেলিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘এলাকাভিত্তিক একক প্রতিনিধিত্বে’র পরিবর্তে ‘জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ চালুর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বশীলতা নিশ্চিত হয় না। এ ব্যবস্থায় সংখ্যালঘিষ্ঠ ভোট পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধি হওয়া যায়। তিনি বলেন সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির পরিবর্তে দলীয় ইশতেহার প্রাধান্য পাওয়ায় নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশী শক্তির ব্যবহার হ্রাস পাবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সিপিবি’র পক্ষ থেকে ১৪ দফা সুপারিশমালা উত্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম।