সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার বৈঠকে সরকারের প্রতি আহ্বান প্রধান বিচারপতির ছুটি ও বিদেশ গমনের প্রস্তুতি নিয়ে দেশবাসীর মনে সৃষ্ট অবিশ্বাস অনতিবিলম্বে নিরসন করুন বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রণের অশুভ তৎপরতা পরিত্যাগ করুন

Posted: 08 অক্টোবর, 2017

আজ ৮ অক্টোবর ২০১৭, রবিবার, সকালে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটি ও বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশবাসীর মনে যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আশংকা তৈরী হয়েছে অনতিবিলম্বে তার বিশ্বাসযোগ্য পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সরকার ও সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর থেকে উচ্চ আদালত, বিশেষ করে মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকার ও সরকারি দল কর্তৃক সংসদের ভিতরে ও বাইরে যে অশালীন ও আক্রমনাত্মক বক্তব্য রাখা হয়েছে তাতে জনগণের মধ্যে এই ধারণা প্রবল হয়ে উঠেছে যে, সরকার নানামুখি চাপ ও হুমকি দিয়ে প্রধান বিচপরপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছে। এই ধরনের তৎপরতা বিচার বিভাগের অবশিষ্ট স্বাধীনতাকে হরণ করে বিচার বিভাগকে কার্যত নির্বাহী বিভাগের অধীনস্ত করবে এবং সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করবে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের পরিস্থিতি সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতাকে আরো পাকাপোক্ত করবে এবং ফ্যাসিবাদের বিপদ আরো বাড়িয়ে তুলবে; গভীর খাদে নিপতিত হবে গণতন্ত্র ও দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে তৈরী করা বিতর্ক আওয়ামী লীগ বিএনপির ক্ষমতাকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি দলীয় রাজনীতির বিষয় হতে পারে না; এর সাথে যুক্ত রয়েছে বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠাসমূহের সক্রিয় স্বাধীন ভূমিকা; রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা ও এক্তিয়ারের গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের প্রশ্ন। সংবিধান স্বীকৃত এই ভারসাম্য নিশ্চিত করা না গেলে দেশ আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে। সভায় দেশের এই সংকটজনক অবস্থায় সতর্ক থাকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান হয়। সিপিবি’র পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিপিবি’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক কমরেড জোনায়েদ সাকি, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড বহ্নি শিখা জামালী, কমরেড আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক কমরেড দেওয়ান আকবর রশীদ নিলু, কমরেড বাচ্চু ভূইয়া।