সিপিবি-বাসদ-এর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কমরেড সেলিম সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে

Posted: 22 এপ্রিল, 2017

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ আহূত দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশে সিপিবি’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি বিষাক্ত ফনা তুলেছে। তারা একে একে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জন মুছে ফেলতে চাইছে। আর মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে সরকার সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শাসকশ্রেণির বড় দুই দল জামায়াত আর হেফাজতকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে ’৭১-এর মতো ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আজ ২২ এপ্রিল বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কমরেড সেলিম ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতিমÐলীর সদস্য অ্যাড. এস এম সবুর। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। সমাবেশে কমরেড সেলিম আরো বলেন, হেফাজতের তাণ্ডবের কথা মানুষ ভোলে নাই। সরকার গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হেফাজতকে মতিঝিলে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে একজন নারী হয়েও, নারী বিদ্বেষী ও নারীসমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হেফাজতের নেতাদের কাছে টেনে নিয়েছেন। হেফাজতের কথামতো সরকার ধারাবাহিকভাবে একের পর এক সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। সরকারের এই পদস্খলন ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ দেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে বিএনপি তার জোটসঙ্গী করে রেখেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখন আক্রান্ত। ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের এই পরিণতি মেনে নেওয়া হবে না। সাম্প্রদায়িক শক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক শক্তির মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি রাঙামাটিতে ছাত্রনেতা রমেল চাকমা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। সমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, কওমি মাদ্রাসার ১৪ লক্ষ দরিদ্র শিশু দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রাষ্ট্র তাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রীর স্বীকৃতি দিয়ে এদের জীবন কতিপয় হেফাজতি মাওলানাদের অধিনস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন যারা মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্য বোঝে না তারা রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্রমান্বয়ে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পথরোধ করার জন্যই ক্ষমতাসীন শ্রেণির পক্ষ থেকে বারবার সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন শ্রেণির অপকৌশলের বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো সূর্যের আলো হয়ে আমরা জ্বলব। সংহতি জানিয়ে ঐক্য ন্যাপের সভাপতিমÐলীর সদস্য অ্যাড. এস এম সবুর বলেন, এই দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ যতবার অসাম্প্রদায়িক ঐক্যের মধ্য দিয়ে সংগ্রামে নেমেছে ততবারই আমরা বিজয়ী হয়েছি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপস করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে তার পরিণতি হবে মর্মান্তিক। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কামনা করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।