প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ফলাফল সম্পর্কে সিপিবি’র প্রতিক্রিয়া

Posted: 10 এপ্রিল, 2017

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ আজ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দু দেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে, দু দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার নিট ফলাফলে তিস্তাসহ দু দেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তি, বাণিজ্য ঘাটতি দূর, টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ বন্ধ, সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল প্রকল্প বাতিল, সীমান্তে মানুষ হত্যা নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকায় বাংলাদেশের জনগণ প্রচ-ভাবে হতাশ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদানে স্পষ্ট ‘না’ জানিয়ে দিয়ে, বাংলাদেশকে অখ্যাত প্রায় মরা চারটি নদীর পানি দেয়ার যে হাস্যকর প্রস্তাব দিয়েছেন, তা এদেশের জনগণকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। ভারতকে ক্রমাগতভাবে নগদ সুবিধা দেয়া হলেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ইস্যুকে বাকির খাতায় পেন্ডিং করে রেখে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে প্রবোধ দেয়া হয়েছে। এই সফরকালে দু দেশের মধ্যে আন্তরিক সহযোগিতা প্রসারিত করার যে সুযোগ ছিল, এ ধরনের একতরফা আচরণ তার মূলে কুঠারাঘাত করেছে। দু দেশের বন্ধুত্ব প্রসারিত করার প্রক্রিয়াকে এভাবে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক সরকার দায়ী হলেও বাংলাদেশের সরকারের দুর্বলতা ও ভুলনীতি দায় এড়াতে পারে না। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, দু দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এরূপ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি তাদের ষড়যন্ত্র জোরদার করার জন্য, এবং বুর্জোয়া দলগুলো তাদের গদি দখলের খেলায় ‘ভারত কার্ড’কে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে তৎপর হচ্ছে। এই বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ার থেকেই দু দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করার জন্য, সে কর্তব্য পালনের জন্য উপযুক্ত প্রকৃত বন্ধুত্বের শক্তি, তথা দু দেশের মেহনতি মানুষসহ জনগণ এবং গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক-প্রগতিবাদী শক্তিকে সোচ্চার হতে হবে। নিজ-নিজ দেশের সাম্প্রদায়িক-প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী ও শোষক শ্রেণি এবং আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে বেগবান করতে হবে। সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্রে দু দেশের জনগণকে পরস্পরের মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক-প্রগতিবাদী শক্তির মধ্যে ঐক্য ও সংহতি দৃঢ়তর করতে হবে। শান্তি, গণতন্ত্র, প্রগতির লড়াই এগিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়েই দেশে-দেশে ও জাতিতে-জাতিতে সৌভ্রাতৃত্বের সৌধ গড়ে তুলতে হবে। এটিই হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়ার একমাত্র কার্যকর পথ। নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।