সিপিবি-বাসদ নেতৃবৃন্দের আহ্বান ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নয় ‘তিস্তা চুক্তি’ সম্পাদন কর

Posted: 05 এপ্রিল, 2017

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা সমস্যাদির সমাধান না করে সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের যে কথা শোনা যাচ্ছে তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আজ ৫ এপ্রিল এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দু’দেশের জনগণ এটাই কামনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে মধ্য দিয়ে দু’দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর নিষ্পত্তি হবে। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদত্ত বিবৃতি ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে সেখানে তিস্তার মতো একটি চুক্তি না হলে কিছু যায় আসে না’ এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে থেকে বাংলাদেশের জনগণ আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্যমতে যে ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে তাতে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি’ নেই। উপরন্তু ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। ‘তিস্তা চুক্তি’ স্বাক্ষর না করে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ অনাকাঙ্ক্ষিত। এ চুক্তি সন্দেহ অবিশ্বাসের জন্ম দিয়ে দু’দেশের বন্ধুত্বকে ক্ষুণ্ন করবে। এর আগেও ভারতের চাহিদাগুলো নগদ নগদ পূরণ করা হলেও বাংলাদেশের প্রয়োজনগুলোকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ধরনের একতরফা সুবিধা প্রদানের দ্বারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানকে প্রাধান্য না দিয়ে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্পাদিত হলে তা দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে। জনগণের ভারতবিরোধী মনোভাবকে আরো উস্কে দেবে, যা সাম্প্রদায়িক শক্তি কাজে লাগিয়ে তাদের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তা নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে, সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পানি বণ্টন করতে হবে। ভাটির দেশের সাথে আলোচনা ও সম্মতি ছাড়া উজানে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ করতে হবে। শুধু যেনতেন একটি চুক্তি হলেই হবে না, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দিতে হবে। এসব নীতির ভিত্তিতেই তিস্তা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশকে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে রাখলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে, যা মোটেই কাম্য নয়। নেতৃবৃন্দ আশবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের মনোভাব অনুধাবন করে ‘তিস্তা চুক্তি’, ‘অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান’, ‘সীমান্ত হত্যা’, ‘কাঁটা তারের বেড়া’, ‘বাণিজ্য ঘাটতি’, ‘শুল্ক ও অশুল্ক বাঁধা’ ‘টিপাইমুখ বাঁধ’, ‘সাম্প্রদায়িক জঙ্গি’, ‘অবৈধ মাদক বাণিজ্য’, ‘সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল’ ইত্যাদি বিষয়ে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে ভারতের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা সমাধান করার আগে কোন ধরনের সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন না। কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দু’দেেেশর মধ্যে অনিষ্পন্ন সমস্যাদির সমাধান না করে সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিবাদে সিপিবি-বাসদের উদ্যোগে আগামী ৭ এপ্রিল, শুক্রবার, বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।