প্রতিরক্ষা চুক্তি চাই না, তিস্তায় পানি চাই - মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Posted: 03 এপ্রিল, 2017

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে অনিষ্পন্ন সমস্যাদির সমাধান না করে ভারতের স্বার্থে সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করার যে কথা শোনা যাচ্ছে তার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দিয়ে উপরোক্ত দাবি জানান। আজ বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, ঢাকা কমিটির সভাপতি কমরেড মোসলেহউদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডাঃ সাজেদুল হক রুবেল। সমাবেশে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে আন্তরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে, এটিই কাম্য। এজন্য জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ দু দেশের মধ্যে জিইয়ে থাকা বিরোধগুলো সমাধান করা অগ্রাধিকারমূলক কর্তব্য। কিন্তু সেক্ষেত্রে তেমন আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। কারণ, তিস্তা চুক্তিসহ দেশের স্বার্থের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে বাদ দিয়ে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে সামনে আনা হয়েছে। এমন অবস্থা অনাকাক্সিক্ষত এবং তা সন্দেহ-অবিশ্বাসের জন্ম দিয়ে দু দেশের বন্ধুত্বকে ক্ষুণœ করবে। কমরেড সেলিম বলেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘তিস্তা চুক্তি’, ‘অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান’, ‘সীমান্ত হত্যা’, ‘বাণিজ্য ঘাটতি’, ‘টিপাইমুখ বাঁধ, ‘সাম্প্রদায়িক জঙ্গি’, ‘অবৈধ মাদক বাণিজ্য’, ‘সুন্দরবন রক্ষা’, ‘রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল’ ইত্যাদি বিষয়ে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে ভারতের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন জরুরি। এসব বিষয়গুলোকে প্রাধান্য না দিয়ে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্পাদিত হলে তা দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে। কমরেড সেলিম আরো বলেন, তিস্তা নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে, সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অবশিষ্ট পানি বণ্টন করতে হবে। ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতি ছাড়া উজানে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ করতে হবে। এই নীতির ভিত্তিতেই ‘তিস্তা চুক্তি’ সম্পাদন করতে হবে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করে রাখলে, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধিতা কেবল বাড়তেই থাকবে। ফলে দু দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এদেশের জনগণ যে ‘জোট নিরপেক্ষপতা’ ও শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের নীতির জন্য সংগ্রাম করেছে, সেই নীতি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। এই নীতিকে ভিত্তি করে ভারতসহ সকল দেশের সঙ্গে সহযোগিতার পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পরীক্ষিত নীতিকে লঙ্ঘন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অশুভ সামরিক চুক্তি, সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটে অংশগ্রহণ ইত্যাদি করা হয়েছে। একইভাবে ভারতের সঙ্গে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হচ্ছে, তা জোট-নিরপেক্ষতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি থেকে দেশকে আরো দূরে সরিয়ে দেবে। তাই, এ ধরনের সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। কমরেড সেলিম ভারতের বাংলাদেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি বিক্রির প্রচেষ্টাকে সে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন ফলে বাতিল হয়ে যাওয়া সরঞ্জামাদি গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ভারতের সাম্প্রদায়িক-প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী যাতে বাংলাদেশকে তাদের পণ্যের বাজারে পরিণত করার অশুভ উদ্দেশ্য সাধনে কোনো অন্যায্য সুবিধা আদায় করে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।