সারের দাম কমানো ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ধান ক্রয়ের দাবি সিপিবি’র

Posted: 15 এপ্রিল, 2023

দফায় দফায় ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সারের দাম বৃদ্ধির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও পুনরায় কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আজ সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ ১৫ এপ্রিল, ২০২৩ শনিবার ঢাকার পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, লাকী আক্তার। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবিদ হোসেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের দাম কেজিপ্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধির ধকল কৃষকরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কৃষক ফসল উৎপাদনে চরম লোকসান দিচ্ছে, এরই মধ্যে আবারও গত ১০ এপ্রিল সকল প্রকার সারের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হলো। গত আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের বর্ধিত দামে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকা এবং এইবারে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সারে বর্ধিত দামে বিঘাপ্রতি কৃষকের প্রায় ৬০০ টাকা মোট ৮৫০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বমন্দায় আমাদের দেশকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কৃষক। বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি কৃষিতে খরচ বাড়াচ্ছে। অথচ কৃষক তার ফসলের লাভজনক দাম পাচ্ছে না। সারের মূল্য বৃদ্ধি কৃষি ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়াবে- যা গ্রহণযোগ্য নয়। এবার খরায় ধানসহ অনেক কৃষি পণ্য উৎপাদনে সংকটে পড়েছে। এজন্য কৃষককে ক্ষতিপূরণ ও প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। চাল ক্রয়ের নামে মধ্যসত্ত্ব ভোগীদের সিণ্ডিকেট ভাঙতে হবে।

গত আট মাস আগেই ইউরিয়া সারের দাম কেজিপ্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধি করে কৃষকের নাভিশ্বাস বের করে দিয়েছিলো সরকার। সার, বীজ, কীটনাশকসহ সকল প্রকার কৃষি উপকরণের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফসলের লাভজনক দাম না পেয়ে কৃষক দিশাহারা। কৃষিবাজার সিন্ডিকেট গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি। এবার কেবল ইউরিয়াই নয় সাথে ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সারের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরিয়া ২৭, ডিএপি ২১, টিএসপি ২২, এমওপি ২০ টাকা কেজি কৃষকের কিনতে হবে। সরকারি সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও বছরের অধিকাংশ সময় কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ থাকে। সার কারখানার আধুনিকায়ন করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত সার উৎপাদন করতে হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্ত একটি কৃষক ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। পৃথিবীতে করোনাকালে যে অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য আমাদের কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকারের উচিৎ কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটা না করে ব্যবসায়ী-মুনাফালোভী এবং মধ্যসত্বভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বারবার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যা আমাদের কৃষি খাতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে ন্যায্য দামে সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।