Revolutionary democratic transformation towards socialism

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত ও আশ্রয়দাতা-পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনুন --- বাম গণতান্ত্রিক জোট

## ১২ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভা গতকাল ৭ অক্টোবর ২০২০ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ২৩/২ তোপখানা রোডস্থ বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মানস নন্দী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা শহিদুল ইসলাম সবুজ। সভার এক প্রস্তাবে সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার নারী নির্যাতন-ধর্ষণ প্রতিরোধে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে নারীর প্রতি সহিংসতা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আছে বিধায় দুর্নীতি, লুটপাট, নারী ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। কারণ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনসমূহ আজ ধর্ষকের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা। তাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদেই নারীর উপর সহিংসতা চলছে। নোয়াখালী, সিলেটসহ সম্প্রতি যে সকল নারী নির্যাতন-ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোর সাথেই আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজন জড়িত। ফলে আইন শৃংঙ্খল বাহিনীও স্বাধীনভাবে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ক্ষমতার দাপটে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে ধর্ষকেরা বেরিয়ে যায় বলে ধর্ষকেরা আরো উৎসাহিত হচ্ছে। সভার প্রস্তাবে ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে আইনের সংশোধন করা, ধর্ষকদের সরকারি দলের ও প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়া, ধর্ষকদের আশ্রয়দাতা-পৃষ্ঠপোষকদের শাস্তির আওতায় আনাসহ নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে ধর্ষণ-নারীর প্রতি সংহিসতা বন্ধ ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও আইনের সংশোধনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকল বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচি : নোয়াখালী, সিলেট, খাগড়াছড়ি, সাভারসহ সারাদেশে নারী ধর্ষণ-নির্যাতন, খুনের বিচার - সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান, ধর্ষকদের আশ্রয়দাতা-পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনা, আইনের সংশোধনসহ নারীর নিরাপত্তা-মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ১২ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..