Register or Login
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বাতিল এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে সিপিবি
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা-গ্রেপ্তারসহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নেতৃতৃন্দ অবিলম্বে নিপীড়নমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বাতিল এবং এই আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা-মহামারিতে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের মানুষও যখন আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত, তখন সরকার নিপীড়নমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ একের পর এক মামলা ও গ্রেপ্তার করে জনমতে নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। সরকারের সমালোচনা করায়, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্লগার, কার্টুনিস্টসহ অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশেরই জামিন হচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই গ্রেপ্তারকৃতদের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া জটিল করে রাখা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থতা আর লুটপাট ঢাকতে সরকার নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। বিবৃতিতে সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজাম মুনিরা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিক ও শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ, মিনহাজ মান্নানকে বাসা থেকে ধরে এনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা দেয়া হয়েছে। এর আগে ৫৪ দিন নিখোঁজ থাকা সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ‘উদ্ধার’ হওয়ার পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও লুটপাটের বিরুদ্ধে লেখা ও সরকারের সমালোচনা করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা করা হয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন জোরদার করার সুযোগ করে দেয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরকার হামলা জোরদার করছে। নিপীড়নমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’টি করার সময়ই প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। নিপীড়ন জোরদার করার জন্য আইনটি করা হচ্ছে বলে তখন যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল, সেই আশঙ্কা এখন সত্যে পরিণত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মিডিয়ার ওপর অব্যাহত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং গণতন্ত্রের লড়াইকে অগ্রসর করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2020. Beta