Register or Login
সিপিবির প্রাথমিক বাজেট-প্রতিক্রিয়া ৯৯% মানুষের স্বার্থবিরোধী, গতানুগতিক, আমলাতান্ত্রিক এ বাজেট গ্রহণযোগ্য নয়
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহম্মদ শাহ আলম আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবকে ৯৯% মানুষের স্বার্থবিরোধী, গতানুগতিক, আমলা তান্ত্রিক আখ্যায়িত করেছেন। করোনা মহাবিপর্যয় কালে পীড়িত মানুষকে বঁাচানোর জন্য স্বাস্থ্য খাতের প্রাধান্য পাওয়ার জন আকাঙ্খা উপেক্ষিত হয়েছে ঘোষিত বাজেটে। তারা বলেন, এই বাজেট ১% লুটেরা ধনীকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। বাজেটকে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বাথর্ রক্ষার গণবিরোধী দলিল আখ্যায়িত করেতা প্রত্যাখান করেন।  বাজেট সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিবি নেতৃবৃন্দ আজ এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৯ জুন সিপিবি’র পক্ষ থেকে আগামী অর্থ বছরের জন্য ঘোষিতব্য বাজেটকে করোনা মহাবিপর্যয় কালে বিশেষ বিবেচনার বাজেট আখ্যায়িত করে এর অগ্রাধিকার নির্ণয়ের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। আগামী বাজেটকে মানুষ বঁাচানোর বাজেট আখ্যায়িত করে স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে ৯৯% এর জন্য বাজেট প্রণয়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বাজেটের অর্থ সংস্থানের জন্য পরোক্ষ করের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ করের উপর জোর দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বাজেটের পরিমাণ বাড়াতে খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়, অপ্রদর্শিত কালো টাকা ও বিদেশে পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত আনা ও বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় ভাবে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া বাজেটের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয়, সিস্টেম লস, বিলাসিতা ইত্যাদি রোধ করে মিতব্যয়িতা প্রদর্শন, প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস, সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী দিনগুলোর মতো ১:৬ করা, সব ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম কঠোর ভাবে দমন ও নিবৃত্ত করা, অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ হ্রাস করা, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও যুক্তি সঙ্গত মাত্রায় কমিয়ে আনা, যথা সম্ভব সরকারী ক্রয় হ্রাস করা, মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ আপাততঃ স্থগিত রাখাসহ নানা পরামর্শ প্রদান করা হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে বলেন বাজেটের অর্থ সংস্থানের পথনির্দেশনার সাথে সাথে করোনাকালে রাজস্ব ব্যয় কমিয়ে বাজেটের উন্নয়ন-বিনিয়োগের অগ্রাধিকারের চিহ্নিত করা হয়েছিল। বাজেটের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ খরচ করতে হবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা-গবেষনা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদি খাত তথা সামাজিক কল্যাণ ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ খাতে, বাজেটের দ্বিতীয় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হবে কৃষি খাত, শিল্প খাত, স্বনিয়োজিত বিনিয়োগ, আত্মকর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি খাতে এবং শেষ এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারিত রাখতে হবে দেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য। নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-গবেষনা খাতে বাজেটের যথাক্রমে ১২ ও ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। সেই সাথে শক্তিশালী গণ-বন্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলে বিপর্যয় কালে অনাহারী মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কথা বলেছিলাম।  নেতৃবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো সরকার সিপিবিসহ দেশের আপামোর মানুষের আকাঙ্খাকে পদদলিত করে আমলাতন্ত্রের সাজানো বাজেট ঘোষনা করেছে। প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ে পরোক্ষ কর প্রত্যক্ষ করের দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই দুঃসহ ভারের সবটাই বহন করতে হবে গরিব-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ নাগরিকদেরকে। অথচ বিত্তবানদের উপর ধাযর্য প্রত্যক্ষ কর হ্রাস করা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর রেয়াত অব্যাহত রাখা হয়েছে, অপ্রদর্শিত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে-ইত্যাদি। এই বাজেটে এভাবে গরিব জনগণের সম্পদ মুষ্ঠিমেয় লুটেরা ধনিকের হাতে প্রবাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।  এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মের কঁাধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটের পরিমাণকে ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই অর্থের বেশির ভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, শ্বেতহস্তির মতো বিশাল সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনেরর ক্ষণাবেক্ষণ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণিকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। এসবই হলো লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ। এর বাইরে ঢালাও ভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবারও অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অর্থনীতিতে লুটপাটের ধারা আরো জোরদার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধনীকে আরো ধনী এবং গরিবকে আরো গরিব করা, ধন-বৈষম্য ও শ্রেণি-বৈষম্য

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2020. Beta