Register or Login
‘করোনাকালের অর্থনীতি, করোনাত্তোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার খাত কি হওয়া উচিৎ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে আজ ৩০ মে ২০২০ সকাল ১১টায় “করোনাকালের অর্থনীতি-করোনাত্তোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার খাত কি হওয়া উচিৎ” শীর্ষক এক অনলাইন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর জনাব সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, সিপিডি’র সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন্দ নিলোর্মী ডালিয়া এবং বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাদিুল ইসলাম সেলিম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী কমরেড জুনায়েদ সাকী, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক কমরেড মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক। মতবিনিময় সভায় আলোচকগণ বলেন, এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় করোনা সংক্রমণ শুধু স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রের অবহেলা ও মানুষের অসহায়ত্ব তুলে ধরেছে তাই নয়, উন্মোচন করেছে উন্নয়নের গল্প ও অর্থনীতির দুর্বলতা কোথায়। আমাদের অর্থনীতি যে ৪টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে অর্থাৎ রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, কৃষি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। করোনা সংক্রমণের কালে এর প্রত্যেকটিই সংকটের মুখে। রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আয় করে যে খাত সেই গার্মেন্টস খাতের নড়বড়ে চেহারা আর মালিকদের দায় না নেবার মানসিকতা থেকে এটা পরিস্কার হয়েছে যে প্রণোদনা, মুনাফা আর শ্রম শোষণের মধ্য দিয়ে যে খাতের বিকাশ, অর্থনৈতিক দুর্যোগে তাঁরা কতটা সুযোগ সন্ধানী। ৪০ বছরের শিল্প মাত্র ৩ মাসে এতটাই কাহিল হয়ে পড়েছে যে রাষ্ট্রের প্রণোদনা অর্থাৎ জনগণের টাকা ছাড়া সে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। এবার প্রমাণ হলো গার্মেন্টস খাত এমন এক বৃক্ষ যে সে ফুল ফল তো দূরের কথা ছায়া দেয়ারও ক্ষমতা রাখে না। এই করোনায় দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে সবচেয়ে উপেক্ষিত খাত বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক। শুধু ভাতের সংস্থান করা নয়, সবজি, মাছ, ডিম, মুরগি, দুধ, মাংস, ফল কোন কিছুর-ই অভাব বোধ করতে দেয়নি যে খাত, গত বাজেটেও সবচেয়ে উপেক্ষিত ছিল সে। মাত্র ৩.৫ শতাংশ বরাদ্দ। ধানের ন্যায্য মুল্য না পাওয়া, সবজি চাষির দুঃখ, মৌসুমি ফল নিয়ে বিড়ম্বনায় উৎপাদক, পোলট্রি খামারির দুর্ভোগ, দুগ্ধ চাষি বিপাকে এসব ছিল পত্রিকার নিয়মিত হেড লাইন। দেশের অর্থনীতির আর একটি বড় চালিকাশক্তি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। দেশের অর্থনৈতিক আয়তনের ৫০ শতাংশ সরবরাহ করে এই খাতের শ্রমজীবীরা। তাদের কাজ নাই তো মজুরি নাই। গত ৪ মাসে তাদের জীবন কীভাবে কেটেছে তার বর্ণনা দেয়া কঠিন। ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, আর সবমিলিয়ে চুরিচামারিসহ দেড় লাখ টন চাল ছিল বরাদ্দ। ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমশক্তির সাড়ে পাঁচ কোটিই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের। তাঁরা কতটুকু সহায়তা পেয়েছে তার হিসেব বের করা কঠিন। করোনা এদেরকে নি¤œবিত্ত থেকে দরিদ্রের কাতারে নামিয়ে এনেছে। নতুন পুরাতন মিলে দরিদ্র সীমায় পৌছানো জনসংখ্যার ৪৩%। চিকিৎসা খাতে বাজেট বরাদ্দ ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে বহু বছর ধরে। জিডিপির হিসেবে ১ শতাংশের কম ০.৯% যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সর্ব নিম্ন। নিজের টাকায় চিকিৎসার খরচ নির্বাহ করার দিক থেকে বাংলাদেশের জনগণ সর্বোচ্চ খরচকারি। করোনায় কেন মানুষ টেস্ট করতে চায় না তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। একজনের টেস্ট করাতে সবমিলিয়ে ৫ হাজার টাকা এবং হয়রানির কথা এবং মাসিক আয়ের কথা তুলনামুলকভাবে আলোচনা করলে তা স্পষ্ট হতে বাকি থাকবে না। প্রবাসী আয়েও বড় ধাক্কা আসবে করোনার কালে। এর ফলে রেমিটেন্সও কমে যাবে বলে আশংকা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিক যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি। সরকারের ভূমিকা নগণ্য, রিক্রুটিং এজেন্সির নামে মানব রপ্তানির ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া প্রভাব এখানে। প্রতিবছর গড়ে ৮

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2020. Beta